
সুন্দরবনের মৎস্যসম্পদ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে চলমান মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞার সময়ে কর্মহীন হয়ে পড়া জেলে পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে সরকার। প্রথমবারের মতো সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল ৮ হাজার ২৭১টি জেলে পরিবারের জন্য ৬৬১ দশমিক ৬৮ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
রোববার (১৯ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. লায়ন শেখ ফরিদুল ইসলাম তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানান।
প্রতি বছর ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত মাছের প্রজনন মৌসুম ও সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষার স্বার্থে বনাঞ্চলের নদী-খালে মাছ ধরা এবং পর্যটকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকে। এ সময় বননির্ভর হাজারো জেলে পরিবার আয়-রোজগারের সুযোগ হারিয়ে অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে।
দীর্ঘদিন ধরেই নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে বিশেষ ভাতা বা সহায়তার দাবি জানিয়ে আসছিলেন সুন্দরবনের জেলে ও বনজীবীরা। অতীতে বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রশিক্ষণ এবং ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচির উদ্যোগ থাকলেও সরাসরি খাদ্য সহায়তার এমন বড় উদ্যোগ আগে নেওয়া হয়নি। এবারই প্রথম সরকার তালিকাভুক্ত ৮ হাজার ২৭১টি জেলে পরিবারের জন্য চাল বরাদ্দ দিয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী তার ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেন, সুন্দরবনের মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণের পাশাপাশি বননির্ভর মানুষের জীবন-জীবিকাকেও সরকার সমান গুরুত্ব দিচ্ছে। নিষেধাজ্ঞার সময়ে জেলে পরিবারের কষ্ট কিছুটা লাঘব করতেই এই বিশেষ মানবিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
সরকারের এ সিদ্ধান্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। তবে প্রকৃত জেলেদের হাতে সহায়তা পৌঁছে দিতে সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ বণ্টন নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
প্রতিমন্ত্রীর পোস্টের মন্তব্যে সাব্বির মাহমুদ মাসুম ও শাহজালাল গাজী প্রশাসনের কার্যকর তদারকির আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রকৃত জেলেরা যেন এই সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হন। অন্যদিকে মোহাম্মদ নূর আলম শেখ বলেন, দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তবায়ন হওয়ায় বননির্ভর মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।
বন বিভাগ জানিয়েছে, তালিকাভুক্ত জেলেদের মধ্যে চাল বিতরণে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের সহায়তা বনজীবীদের আর্থিক চাপ কমানোর পাশাপাশি সুন্দরবন সংরক্ষণে তাদের অংশগ্রহণ আরও বাড়াবে।
মন্তব্য করুন