মঙ্গলবার
১৪ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩

হবিগঞ্জে খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে ২০ গ্রাম প্লাবিত

হাজারো মানুষ পানিবন্দি
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ : ১০ জুলাই ২০২৬, ০২:১৭ পিএম
হবিগঞ্জে খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে ২০ গ্রাম প্লাবিত, হাজারো মানুষ পানিবন্দি

কয়েক দিনের টানা ভারী বর্ষণ এবং ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে হবিগঞ্জের খোয়াই নদী। বৃহস্পতিবার রাতে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের কালীগঞ্জ এলাকায় খোয়াই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে বন্যার পানি লোকালয়ে প্রবেশ করলে অন্তত ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়। এতে কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

নদীর প্রবল স্রোতে নিম্নাঞ্চলের শত শত বসতবাড়ি, রাস্তাঘাট এবং বিস্তীর্ণ ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। আকস্মিক বন্যার পানিতে মানুষ গবাদিপশু, প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র ও মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের উদ্দেশ্যে ছুটছেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে বানিয়াচং উপজেলার রাধাপুর এলাকায় খোয়াই নদীর বাঁধ উপচে হাওরে প্রবল বেগে পানি প্রবেশ করে, যা বন্যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

এদিকে চুনারুঘাট উপজেলার নালমুখ বাজার সংলগ্ন এলাকায় নদীভাঙন নতুন করে তীব্র আকার ধারণ করেছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় ভাঙন দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে। এতে হরিজন সম্প্রদায়ের রবিদাসপাড়ার অন্তত ১৫টি পরিবার চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। পাশাপাশি কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সরকারি স্থাপনাও হুমকির মুখে পড়েছে।

খোয়াই নদীর মাছুলিয়া পয়েন্টের শহর রক্ষা বাঁধও বর্তমানে চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বাঁশ দিয়ে অস্থায়ীভাবে বাঁধ রক্ষার চেষ্টা করছেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, পানি উন্নয়ন বোর্ড সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় ভাঙনের ঝুঁকি বেড়েছে।

জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্র জানায়, কালীগঞ্জ এলাকায় বাঁধ ভেঙে যাওয়ার পর দ্রুতগতিতে বন্যার পানি নোয়াবাদ, চরহামুয়া, সুঘর, বনগাঁও, নতুন বাজার, বালিহাটা, কালীগঞ্জ, যাদবপুর, বিষ্ণরামপুর, দক্ষিণচর, রামনগর, ধোপাখাল, বনদক্ষিণসহ অন্তত ১৫টি গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।

কেউ আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিচ্ছেন, আবার অনেকে স্থানীয় আশ্রয়কেন্দ্রে ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অবস্থান নিয়েছেন। এছাড়া শহরের কামড়াপুর ও দানিয়ালপুরসহ কয়েকটি এলাকায় পানি প্রবেশ করে। রাতেই খোয়াই নদীর কালীগঞ্জ বাঁধ ভেঙে যাওয়ার খবর পেয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মইনুল ইসলাম, হবিগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আবু জাহেরসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

তারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘুরে দেখেন এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন। পরে স্থানীয় একটি মাদ্রাসা থেকে মাইকিং করে প্লাবিত এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে ও নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে শিশু, নারী, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিতে বলা হয়।

রাত ১১ টার দিকে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় হবিগঞ্জ-মিরপুর সড়কের বিভিন্ন স্থানে পানি উঠে যায়। অনেকাংশ পানির নিচে চলে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। পানি আরও বাড়লে সড়কটিতে সম্পূর্ণ যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার সঙ্গে মিরপুর ও আশপাশের এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ভাঙনরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য পর্যাপ্ত ত্রাণ সহায়তা এবং নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কায় পুরো এলাকায় উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। একই সঙ্গে বন্যার আশঙ্কা তৈরী হয়েছে।

খোয়াই নদীর চুনারুঘাট বাল্লা পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ১৯২, শায়েস্তাগঞ্জ পয়েন্টে ১১৩ এবং মাছুলিয়া পয়েন্টে ১৪০সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া কুশিয়ারা নদীর কয়েকটি পয়েন্টেও পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, সকালে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেলেও সন্ধ্যার দিকে পানি কমতে থাকে। তবে জেলার দুুটি অংশে বাঁধ ভেঙ্গে গেলে কয়েকটি এলাকা প্লাবিত হয়। পানি বৃদ্ধি পেলে জেলার নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা ও বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখেছে স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড।

হবিগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আবু জাহের জানিয়েছেন, বন্যা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় একটি কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে। জরুরি সহায়তার জন্য ৫ লাখ টাকা, ১০০ টন চাল এবং ১,৮২০ প্যাকেট শুকনো খাবার মজুদ রাখা হয়েছে।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

১৪ জুলাই: ইতিহাসের এই দিনে যা ঘটেছিল

আফিল গ্রুপের নামে ফেসবুকে ভুয়া পেজ খুলে প্রতারণার অভিযোগ

প্রাথমিক বৃত্তিতে সাংবাদিকপুত্র তাহাব্বিরের সাফল্য

প্রায় পাঁচ বছর পর মোংলা বন্দর কর্মচারী সংঘে নির্বাচনের উদ্যোগ

পুদিনা পাতার উপকারিতা

মারা গেলেন দক্ষিণী খলনায়ক এসআই রাজশেখরন

১ আগস্ট থেকে টাইফয়েড টিকা পাবে ১৫ মাস বয়সী শিশুরা

ভিসা আবেদনকারীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নির্দেশনা

ঈশ্বরদীতে একতা এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত, উত্তরাঞ্চলে রেল যোগাযোগ বন্ধ

মহেশপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নির্মাণশ্রমিকের মৃত্যু

টানা বর্ষণে কেশবপুরে জনজীবন বিপর্যস্ত, চরম দুর্ভোগে নিম্ন আয়ের মানুষ

প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে বৃত্তি পেল মোরেলগঞ্জের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থী মাইশা

শালিখায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষাবৃত্তি, বাইসাইকেল ও সেলাই মেশিন বিতরণ

ইজতেমা সংঘর্ষের ঘটনায় নতুন করে সরব ওলামা-মাশায়েখ, দ্রুত বিচারের দাবি

অর্থনৈতিক সংকটের ওপর বন্যার নতুন আঘাত

সাবেক শ্রম প্রতিমন্ত্রী নজরুল ইসলাম চৌধুরী আর নেই

গাইবান্ধায় জুলাই শহীদ দিবস পালন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত

ঝিকরগাছায় আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

কুমিল্লায় জলাবদ্ধতা: ভোগান্তিতে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা

মহেশপুরে বিজিবির উদ্যোগে এক’শ অসহায় পরিবারের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ

X