মঙ্গলবার
১৪ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩

একটি সেতুর অভাবে মানুষের চরম দুর্ভোগ

ঘোড়াঘাট, (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১০ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৫ এএম
একটি সেতুর অভাবে মানুষের চরম দুর্ভোগ

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট ও রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার মধ্য প্রবাহিত করতোযা নদীর কুলানন্দপুর ঘাটে একটি সেতুর অভাবে দুই পাড়ের হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময পেরিযে গেলেও এখানে স্থাযী পারাপারের কোনো ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। দুই উপজেলার সীমান্তবর্তী প্রায ১৫ থেকে ১৬টি গ্রামের বাসিন্দাদের যাতাযাতের একমাত্র ভরসা এখন ছোট একটি খেযা নৌকা বা অস্থায়ী ভেলা। একটি সেতুর অনুপস্থিতি শুধু মানুষের যাতাযাতকেই ব্যাহত করছে না, বরং থমকে দিযেছে এই অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবাকে।

প্রতিদিন ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শত শত মানুষ চরম ঝুঁকি নিযে এই ঘাট দিযে নদী পারাপার হয। স্থানীয বাসিন্দারা জানান, শুষ্ক মৌসুমে কোনোমতে চলাচল করা গেলেও বর্ষাকালে পরিস্থিতি ভযাবহ রূপ নেয। নদীর পানি ও স্রোত বেড়ে গেলে পারাপার অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হযে ওঠে এবং অনেক সময যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হযে পযড়ে।

কুলানন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা হারুন মিযা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দেশে এত উন্নযন হলেও আমাদের এই এলাকায তার ছোঁযা লাগেনি। রাস্তাঘাটের বেহাল দশা, তার ওপর নদী পারাপারের কোনো স্থাযী ব্যবস্থা নেই। এই অবহেলার কারণে ওপারে বিযে পর্যন্ত দিতে চায না অনেকে। আমরা যেন এক পিছিযে পডা জনপদে বাস করছি।

এই অঞ্চলের মূল চালিকাশক্তি কৃষি হলেও সেতুর অভাবে গ্রামীণ অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দুই পাযড়ের কৃষকেরা তাঁদের উৎপাদিত ধান, ভুট্টা, আলু ও শাকসবজি সমযমতো বাজারে নিতে পারেন না। অনেক সময নৌকায পারাপারের সময ফসলের ক্ষতি হয। সমযমতো বাজারে পৌঁছাতে না পারায চাষিরা ফসলের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ফলে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে অনেক কৃষক চাষাবাদে আগ্রহ হারিযে ফেলছেন।

বেশি বিপাকে পড়েছে শিক্ষার্থীরা। প্রতিদিন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিযে নদী পার হচ্ছে। অভিভাবকেরা নিরাপত্তার কারণে বর্ষাকালে সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে ভয পান, যার ফলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে। স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রেও একই চিত্র। জরুরি প্রযোজনে কোনো মুমূর্ষু রোগীকে হাসপাতালে নিতে চাইলে ঘাটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয, যা রোগীর জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলে।

স্থানীয সচেতন মহলের মতে, একটি সেতুর অভাবে পুরো এলাকার উন্নযন থমকে আছে। এলাকায কোনো নতুন ব্যবসা বা ক্ষুদ্র শিল্প গড়ে[ উঠছে না, যার ফলে কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত হযে পড়ে[ছে। এলাকাবাসীর দাবি, কুলানন্দপুর ঘাটে একটি স্থাযী সেতু নির্মাণ করা হলে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট ও রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার মধ্যে সরাসরি ও সহজ যোগাযোগ স্থাপিত হবে। এতে দুই পাড়ের মানুষের সময ও যাতাযাত খরচ যেমন বাঁচবে, তেমনি শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ব্যবসা-বাণিজ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। এলাকাবাসী দ্রুত এখানে একটি সেতু নির্মাণের জন্য স্থানীয সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

১৪ জুলাই: ইতিহাসের এই দিনে যা ঘটেছিল

আফিল গ্রুপের নামে ফেসবুকে ভুয়া পেজ খুলে প্রতারণার অভিযোগ

প্রাথমিক বৃত্তিতে সাংবাদিকপুত্র তাহাব্বিরের সাফল্য

প্রায় পাঁচ বছর পর মোংলা বন্দর কর্মচারী সংঘে নির্বাচনের উদ্যোগ

পুদিনা পাতার উপকারিতা

মারা গেলেন দক্ষিণী খলনায়ক এসআই রাজশেখরন

১ আগস্ট থেকে টাইফয়েড টিকা পাবে ১৫ মাস বয়সী শিশুরা

ভিসা আবেদনকারীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নির্দেশনা

ঈশ্বরদীতে একতা এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত, উত্তরাঞ্চলে রেল যোগাযোগ বন্ধ

মহেশপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নির্মাণশ্রমিকের মৃত্যু

টানা বর্ষণে কেশবপুরে জনজীবন বিপর্যস্ত, চরম দুর্ভোগে নিম্ন আয়ের মানুষ

প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে বৃত্তি পেল মোরেলগঞ্জের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থী মাইশা

শালিখায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষাবৃত্তি, বাইসাইকেল ও সেলাই মেশিন বিতরণ

ইজতেমা সংঘর্ষের ঘটনায় নতুন করে সরব ওলামা-মাশায়েখ, দ্রুত বিচারের দাবি

অর্থনৈতিক সংকটের ওপর বন্যার নতুন আঘাত

সাবেক শ্রম প্রতিমন্ত্রী নজরুল ইসলাম চৌধুরী আর নেই

গাইবান্ধায় জুলাই শহীদ দিবস পালন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত

ঝিকরগাছায় আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

কুমিল্লায় জলাবদ্ধতা: ভোগান্তিতে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা

মহেশপুরে বিজিবির উদ্যোগে এক’শ অসহায় পরিবারের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ

X