মঙ্গলবার
২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

মোরেলগঞ্জে ৫ বছর ধরে পলিথিন টাঙ্গিয়ে ছাপড়া ঘরে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান

গনেশ পাল, মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট):
প্রকাশ : ৩০ জুন ২০২৬, ১০:১৮ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে ১৯০নং পশ্চিম তেলিগাতী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি যেন বিদ্যালয় নয়, একটি জরাজীর্ণ ছাপড়া ঘর। দীর্ঘ ৫ বছর ধরে পলিথিন টানিয়ে সেখানে শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলছে। নতুন ভবনের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়রা।

মঙ্গলবার সরেজমিনে জানা যায়, উপজেলার তেলিগাতী ইউনিয়নের এই বিদ্যালয়টি ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও ২০২১ সালে পুরোনো ভবনটি নিলাম প্রক্রিয়ায় অপসারণ করা হয়। এরপর থেকে নতুন কোনো ভবন নির্মাণ না হওয়ায় দীর্ঘ ৫ বছর ধরে পলিথিন দিয়ে আচ্ছাদিত গোলপাতার ছাপড়া ঘরেই ৯৭ জন শিক্ষার্থীকে পাঠদান করানো হচ্ছে।

শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়টিতে ৬টি শিক্ষকের পদ থাকলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ৩ জন। ২০২৪ সাল থেকে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন রজিনা আক্তার। ২০২৫-২০২৬ সাল থেকে সহকারী শিক্ষকের আরও ২টি পদ শূন্য রয়েছে।

শিক্ষার্থীর সংখ্যা নিয়মিত বেশি হলেও মাত্র ৩ জন শিক্ষক দিয়ে ক্লাস পরিচালনায় প্রতিনিয়ত সমস্যায় পড়তে হচ্ছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। জরাজীর্ণ ছাপড়া ঘরে দুই শিফটে তিনটি শ্রেণির পাঠদান চলছে। প্রচণ্ড রোদ ও বৃষ্টিতে শিক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, শ্রেণিকক্ষে কোনো বৈদ্যুতিক পাখা নেই। গোলপাতার ছাউনির ওপর পলিথিন দিয়ে কোনোমতে ঢেকে রাখা হয়েছে। বৃষ্টি হলে ক্লাস বন্ধ হয়ে যায়, বইখাতা ভিজে যাওয়ায় অনেক সময় শিক্ষার্থীদের অফিস কক্ষে ক্লাস নিতে হয়। এমনকি সেখানে পরীক্ষাও নেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়।

শিক্ষার্থীরা জানায়, “রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে কবে পর্যন্ত এভাবে ক্লাস করতে হবে জানি না। কবে আমাদের নতুন ভবন হবে?”—এমন প্রশ্ন তাদের।

অভিভাবক তহমিনা বেগম ও শারমিন বেগম বলেন, “৭–৮ কিলোমিটার দূর থেকে পায়ে হেঁটে সন্তানদের স্কুলে নিয়ে আসি। লেখাপড়ার দিক থেকে স্কুলটি ভালো হলেও ৫ বছর ধরে পলিথিনে ঘেরা জরাজীর্ণ ঘরে ক্লাস চলছে। আমরা দ্রুত নতুন ভবনের দাবি জানাই।”

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রজিনা আক্তার বলেন, “নিয়মিত অভিভাবকদের নানা প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়। পুরোনো ভবন অপসারণের পর ২০২৩ সালে ক্ষুদ্র মেরামত বরাদ্দে একটি টিনশেড অফিস ঘর নির্মাণ করা হয়। সেখানে অফিস কার্যক্রম চলে, তবে বৃষ্টির সময় ওই ঘরেই ক্লাস নিতে হয়। একাধিকবার পরীক্ষাও নেওয়া হয়েছে। নতুন ভবনের জন্য উপজেলা শিক্ষা অফিসে আবেদন করা হয়েছে।”

বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি শেখ মুজিবুর রহমান বলেন, তিনি একসময় এ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। তখন থেকেই ভবনের সংকট চলছে। বর্তমানে অভিভাবকরা সন্তানদের অন্যত্র নিয়ে যাচ্ছেন। দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ করা হলে সমস্যার সমাধান হবে বলে তিনি মনে করেন।

ক্লাস্টার সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বলেন, বিদ্যালয়ের ভবন সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বিদ্যালয়টি একাধিকবার তালিকায় প্রস্তাবনায় রয়েছে। বরাদ্দ এলে নতুন ভবনের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়া দল ঘোষণা

তিতুমীর কলেজে হল ফি কমানোর দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

যশোরসহ ১০ জেলায় মামলাপূর্ব বাধ্যতামূলক মেডিয়েশন কার্যক্রমের উদ্বোধন

বিশ্ববাজারে কমেছে তেলের দাম

কালীগঞ্জে অবৈধ চায়না দুয়ারী জাল ধ্বংস, দুই রেস্টুরেন্টকে জরিমানা

আজ সোনার ভরি কত?

ইরানের সামরিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলা

সংসদ অভিমুখে ফের পদযাত্রা করবে সিজেপি, উত্তপ্ত দিল্লির যন্তর মন্তর

টিভিতে আজকের খেলার সূচি

২১ জুলাই: ইতিহাসের এই দিনে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা

রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে: মির্জা ফখরুল

হাম ও ডেঙ্গু দু’টোই প্রতিরোধ জরুরি

গোপালগঞ্জে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে বৃদ্ধ আটক

ভারি বৃষ্টিতে সাজিয়ালীর ব্রিজ ভেঙে জনদুর্ভোগ চরমে, বিকল্প পথে চলছে যাতায়াত

নড়াইলে পাঁচ বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর গলা টিপে হত্যা

বাঘারপাড়ায় ট্রাকচাপায় সাইকেল আরোহীর মৃত্যু

যশোর জেলা স্যানিটারি ও নলকূপ ব্যবসায়ী সমিতি   / নির্বাচন ঘিরে উৎসব আমেজ পাইপপট্টিতে১৩ পদের জন্য লড়াইয়ে ২৫ প্রার্থী

কিশমিশ খেলে মিলবে ৭ উপকারিতা

গোস্ত কিনতিও হ্যারেজ খাতি হয় 

চিকিৎসা যাবে সবার দুয়ারে: প্রধানমন্ত্রীর নতুন নির্দেশনা

X