
সুনামগঞ্জ সদর থানার ফেসবুক পেজে ঔষধ সম্পর্কিত ‘মনগড়া ও বিভ্রান্তিকর’ তথ্য প্রচারের অভিযোগ তুলে এর প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে বাংলাদেশ কেমিস্টস অ্যান্ড ড্রাগিস্টস সমিতি, সুনামগঞ্জ জেলা শাখা। তবে এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি মো. রতন শেখ ওই অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন।
বুধবার দুপুরে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা জগৎজ্যোতি পাবলিক লাইব্রেরির হলরুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের জেলা কমিটির সভাপতি মো. আলতাফুর রহমান লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, গত ১৪ জুন সুনামগঞ্জ সদর থানার ফেসবুক পেজ এবং কয়েকটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে প্রচারিত একটি ভিডিওতে ঔষধ সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর ও অবৈজ্ঞানিক বক্তব্য উপস্থাপন করা হয়েছে, যা জনমনে ভুল ধারণা সৃষ্টি করেছে। এ ঘটনায় অভিযোগকারী আবির হাসান এবং সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রতন শেখের বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়।
তিনি আরও বলেন, অভিযোগের পর পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতে সংশ্লিষ্ট ঔষধের অবশিষ্ট তিনটি ট্যাবলেট পরীক্ষা করে স্বাভাবিক পাওয়া গেছে। তবে এ তথ্য পরে জনসমক্ষে উপস্থাপন না করায় সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি রয়ে গেছে বলে দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, একটি অ্যান্টিবায়োটিক ট্যাবলেট সেবন করে কোনো রোগের চিকিৎসা সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্ধারিত মাত্রা ও নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করতে হয়। এছাড়া বিবর্ণ বা কালো দাগযুক্ত ট্যাবলেট উৎপাদন বা সংরক্ষণজনিত ত্রুটির কারণে হতে পারে এবং এ ধরনের ক্ষেত্রে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান তা পরিবর্তন করে দেয় বলেও উল্লেখ করা হয়।
সংগঠনের পক্ষ থেকে দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঔষধ বিষয়ে জনসাধারণের সামনে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে বিজ্ঞানভিত্তিক ও যাচাইকৃত তথ্য উপস্থাপনের আহ্বান জানানো হয়।
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি মো. রতন শেখ বলেন, সমিতির অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। ভুক্তভোগী নিজে ফার্মেসিতে গিয়ে ওষুধ দেখান এবং সেখানে কোনো সহযোগিতা না পেয়ে পুলিশের কাছে আসেন। পরে পুলিশ বিষয়টি মোবাইল কোর্টকে অবহিত করে। মোবাইল কোর্টের ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা অভিযান পরিচালনা করেন এবং অসংগতি পাওয়ায় ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একইসঙ্গে ভুক্তভোগীকে নতুন একটি ওষুধের প্যাকেট প্রদান করা হয়। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসিত হয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, কিছুদিন পর হঠাৎ করে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ভিন্ন বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, যার পেছনে ইন্ধন থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহ-সভাপতি সাইফুল্লাহ হাসান জুনেদ, সদস্য হারুন আহমেদ, মো. আলী নূর, মো. ফজলুল হক, পৌর কমিটির সভাপতি মো. আবুল কাশেম, সাধারণ সম্পাদক মো. জাবের আহমদ, সদস্য জয়ন্ত রায়সহ জেলা ও পৌর কমিটির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
মন্তব্য করুন
৩০ জুন ২০২৬, ০৩:৩৭ পিএম
৩০ জুন ২০২৬, ০৬:৫৪ পিএম