
একসময় জটিল অস্ত্রোপচারের জন্য মোংলা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার রোগীদের খুলনা কিংবা দূরবর্তী বড় হাসপাতালের ওপর নির্ভর করতে হতো। এতে সময়, অর্থ এবং ভোগান্তি—সবই বাড়ত। তবে গত তিন বছরে সেই পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটিয়েছে মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ২০২৩ সালের ৩১ মে চালু হওয়া মেজর অপারেশন সেবা তিন বছর পূর্ণ করেছে। এ সময়ের মধ্যে হাসপাতালটিতে সফলভাবে ৯৩৯টি মেজর অপারেশন সম্পন্ন হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, বর্তমানে এখানে নিয়মিতভাবে সিজারিয়ান সেকশন, হার্নিয়া, অ্যাপেনডিসাইটিস, টিউমারসহ বিভিন্ন ধরনের জটিল অস্ত্রোপচার করা হচ্ছে। ফলে শুধু মোংলার বাসিন্দারাই নয়, বাগেরহাটের রামপাল, মোরেলগঞ্জ ও শরণখোলা এবং খুলনার দাকোপ উপজেলার রোগীরাও চিকিৎসাসেবার জন্য এই হাসপাতালে আসছেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, আগে এসব রোগীকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বা বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে যেতে হতো। বিশেষ করে জরুরি রোগীদের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে গিয়ে বাড়তি ঝুঁকি ও দুর্ভোগের শিকার হতে হতো। বর্তমানে নিজ এলাকার কাছেই অস্ত্রোপচারের সুযোগ তৈরি হওয়ায় রোগীদের ভোগান্তি অনেকাংশে কমেছে।
রামপাল উপজেলার গৌরম্ভা ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, “আগে পরিবারের কারও অপারেশন প্রয়োজন হলে খুলনায় যেতে হতো। যাতায়াত ও চিকিৎসা ব্যয় নিয়ে সবসময় দুশ্চিন্তা থাকত। আমার মায়ের হার্নিয়ার অপারেশন মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হয়েছে। চিকিৎসাসেবা ও চিকিৎসকদের আন্তরিকতায় আমরা সন্তুষ্ট। এখন আশপাশের কয়েকটি উপজেলার মানুষও এই হাসপাতালের ওপর আস্থা রাখছেন।”
চাঁদপাই এলাকার বাসিন্দা মো. রহমত আলী বলেন, “আমার স্ত্রীর সিজারিয়ান অপারেশন এই হাসপাতালে হয়েছে। সরকারি হাসপাতালে এত ভালো সেবা পাওয়া যাবে, আগে ভাবিনি। এতে আমাদের সময় ও অর্থ—দুটোই সাশ্রয় হয়েছে।”
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, আধুনিক অপারেশন থিয়েটার, দক্ষ চিকিৎসক, অ্যানেস্থেসিয়া টিম, নার্স এবং ওটি স্টাফদের সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলে নিরবচ্ছিন্নভাবে অস্ত্রোপচার সেবা প্রদান সম্ভব হচ্ছে। একই সঙ্গে রোগীর নিরাপত্তা ও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. শাহীন হোসেন বলেন, “উপজেলা পর্যায়ে নিরাপদ ও মানসম্মত অস্ত্রোপচার সেবা নিশ্চিত করাই ছিল আমাদের প্রধান লক্ষ্য। সীমিত জনবল ও সম্পদের মধ্যেও পুরো টিমের আন্তরিক প্রচেষ্টায় গত তিন বছর ধরে এই সেবা কার্যক্রম অব্যাহত রাখা সম্ভব হয়েছে। ৯৩৯টি সফল মেজর অপারেশন আমাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। সবচেয়ে বড় অর্জন হলো, স্থানীয় মানুষ এখন নিজ এলাকার কাছেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন।”
তিনি আরও বলেন, “এ অর্জন কোনো একক ব্যক্তির নয়। চিকিৎসক, অ্যানেস্থেসিয়া টিম, নার্স, ওটি স্টাফসহ সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলেই এটি সম্ভব হয়েছে।”
স্থানীয় সচেতন মহলের অভিমত, উপজেলা পর্যায়ে মেজর অপারেশন সেবা চালুর মাধ্যমে মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এর ফলে রোগীদের ভোগান্তি কমার পাশাপাশি সরকারি স্বাস্থ্যসেবার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
মন্তব্য করুন