
বগুড়ার একটি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে (টিটিসি) জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেতার বিরুদ্ধে ছাত্রী ও নারী শিক্ষকদের উত্ত্যক্ত এবং অশালীন কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা তাকে অধ্যক্ষের কক্ষে জুতাপেটা করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে তিনি ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়াবেন না মর্মে মুচলেকা দিয়ে রেহাই পান।
অভিযুক্ত আলী আজম সাব্বির খান বগুড়ার টিটিসিতে ড্রাইভিং ও আরএসি ট্রেডের শিক্ষার্থী এবং এনসিপির স্থানীয় পর্যায়ের একজন নেতা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সাব্বির খান নিজের ট্রেডের পাশাপাশি অন্যান্য ট্রেডের অন্তত ২০ জন ছাত্রীকে মোবাইল ফোন ও সরাসরি বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত এবং অশালীন কুপ্রস্তাব দেন। এছাড়া প্রতিষ্ঠানের অন্তত ছয়জন নারী শিক্ষককেও একই ধরনের প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, প্রতিবাদ করলে তিনি এনসিপির সমন্বয়ক পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করতেন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা টিটিসির অধ্যক্ষের কাছে অভিযোগ করেন। প্রশাসনিকভাবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হলেও অভিযোগ অনুযায়ী তার আচরণে পরিবর্তন আসেনি। পরে ২৪ মে প্রতিষ্ঠান ছুটির দিনে অধ্যক্ষের কক্ষে শিক্ষকদের সঙ্গে অসদাচরণ ও চড়াও হওয়ার চেষ্টা করলে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা তাকে জুতাপেটা করেন। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
টিটিসির অধ্যক্ষ প্রকৌশলী এসএম ইমদাদুল হক বলেন, এটি একটি সাধারণ ঘটনা এবং অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে বহিষ্কারের প্রক্রিয়া নেওয়া হবে।
ঘটনার পর জেলা এনসিপির সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত ইমরান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে আলী আজম সাব্বির খানকে সংগঠনের সব দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করে তিন কার্যদিবসের মধ্যে জেলা এনসিপির আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার এমএসএ মাহমুদ ও সদস্য সচিব সুলতান মাহমুদের কাছে লিখিত ব্যাখ্যা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে অভিযুক্তের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা এনসিপির এক দায়িত্বশীল নেতা তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা রয়েছে বলে জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। ভুক্তভোগীরা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন