
কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলায় কোরবানির পশুর চামড়ার ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় চরম হতাশায় পড়েছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। শুক্রবার (৩০ মে) উপজেলার গোমকোট ও তেজের বাজার এলাকায় চামড়া গর্ত করে মাটিতে পুঁতে ফেলার ঘটনা ঘটেছে, যা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
স্থানীয় ক্ষুদ্র চামড়া ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদুল আজহার দিন বিভিন্ন এলাকা থেকে তারা গরুর চামড়া সংগ্রহ করে একত্রিত করেন। বড় পাইকার এসে ন্যায্য দামে চামড়া কিনবেন—এমন আশায় তারা রাতভর অপেক্ষা করেন।
তবে প্রত্যাশিত বড় ক্রেতারা বাজারে না আসায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়ে। কিছু ছোট পাইকার মাত্র ৫০ থেকে ১০০ টাকার মতো কম দামে চামড়া কেনার প্রস্তাব দিলেও অধিকাংশ চামড়া অবিক্রিত থেকে যায়।
দাম না পাওয়ায় হতাশ হয়ে অনেক ব্যবসায়ী রাস্তার পাশে ও খোলা জায়গায় চামড়া ফেলে চলে যান। পরে শুক্রবার দুপুরের দিকে বিভিন্ন স্থানে গর্ত করে এসব চামড়া মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়।
স্থানীয়দের মতে, অনেক ব্যবসায়ী বাজার ও দোকানের সামনে চামড়া জমা করেছিলেন। কিন্তু বাজারে বড় ক্রেতা না আসায় এবং দাম অত্যন্ত কম থাকায় তারা বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েন।
একাধিক ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, চামড়া সংগ্রহে তারা নগদ টাকা বিনিয়োগ করলেও ন্যায্য মূল্য পাননি। ফলে বাধ্য হয়েই অনেকেই চামড়া মাটিতে পুঁতে ফেলেন।
মোড্ডা গ্রামের ব্যবসায়ী জসিম বলেন, নগদ টাকা দিয়ে চামড়া কিনে বিপাকে পড়েছি। ৫০ থেকে ১০০ টাকা দাম বলেছে কিছু পাইকার। শেষ পর্যন্ত পুঁতে ফেলতে হয়েছে।
অন্যদিকে গোমকোট গ্রামের ব্যবসায়ী ওসমান বলেন, বাড়ি বাড়ি গিয়ে টাকা দিয়ে চামড়া সংগ্রহ করেছি, কিন্তু ন্যায্য দাম না পেয়ে মাটিতে পুঁতে ফেলেছি। আমরা সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চাই।
এ বিষয়ে নাঙ্গলকোট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু রায়হান বলেন, জাতীয় সম্পদ নষ্ট করা ঠিক হয়নি। আমরা মাদ্রাসাগুলোতে চামড়া সংরক্ষণের জন্য লবণ সরবরাহ করেছি। আগে জানালে আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারতাম।
মন্তব্য করুন