
রাজধানীর নতুন বাজার সংলগ্ন নর্দ্দা এলাকায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত চারজন নিহত এবং আরও অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। বুধবার (২৭ মে) সকাল ৬টার দিকে পটুয়াখালী থেকে ছেড়ে আসা ইসলাম পরিবহনের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রোড ডিভাইডার ভেঙে বিপরীত লেনে উঠে আকাশ পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসে সজোরে ধাক্কা দেয়।
দুর্ঘটনার পরপরই এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। ঈদ উপলক্ষে ঘরমুখো যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছে যায়। দুর্ঘটনাকবলিত আকাশ পরিবহনের বাসটির সামনের অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
নিহতরা হলেন- লাইজু বেগম (৩৮), স্বামী নাম মো. কবির জোমাদ্দার (থানা-মোংলা, জেলা-বাগেরহাট); কবির জমাদ্দার (৪৭), বাবার নাম আ. রশিদ জমাদ্দার (থানা-মোংলা, জেলা-বাগেরহাট); খুশি বেগম (৩৫), বাবার নাম সুলতান ফরাজি (থানা-মোংলা, জেলা-বাগেরহাট) ও মো. রবিউল (২২), বাবার নাম মজিবর (থানা-মির্জাগঞ্জ, জেলা-পটুয়াখালী।
আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাদের কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত ভাটারা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নেসার উদ্দিন জানান, নতুন বাজার এলাকায় সড়কের পাশে বাস কাউন্টার থাকায় সকাল থেকেই সেখানে যানবাহনের চাপ ছিল। এ সময় পটুয়াখালী থেকে আসা ইসলাম পরিবহনের বাসটি বেপরোয়া গতিতে চলছিল।
উত্তরমুখী সড়ক পার হওয়ার সময় চালক বাসের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। বাসটি রোড ডিভাইডারের ওপর উঠে বিপরীত লেনে চলে যায় এবং উত্তরা থেকে গুলিস্তানগামী আকাশ পরিবহনের বাসে ধাক্কা দেয়।
পুলিশ জানায়, আকাশ পরিবহনের বাসটিতে যাত্রীর সংখ্যা বেশি ছিল। সংঘর্ষের তীব্রতায় বাসটি কয়েক গজ দূরে ছিটকে যায়। ঘটনাস্থলেই এক নারী যাত্রীর মৃত্যু হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও তিনজন মারা যান।
দুর্ঘটনার পর ইসলাম পরিবহনের বাসচালক ও হেল্পার ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং বাড্ডা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে।
এসআই নেসার উদ্দিন আরও জানান, ইসলাম পরিবহনের যাত্রীদের ভাষ্য অনুযায়ী বাসটি পটুয়াখালী থেকেই বেপরোয়া গতিতে চলছিল। যাত্রাপথে চালককে বারবার সতর্ক করা হলেও তিনি তা উপেক্ষা করেন।
মন্তব্য করুন