
চাঁদপুর জেলার অর্ধশতাধিক গ্রামে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে একদিন আগেই পবিত্র ঈদুল আজহা উদ্যাপন করেছেন। বুধবার (২৭ মে) সকাল থেকেই এসব এলাকার মুসল্লিরা উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদের নামাজ আদায় করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় শত বছর ধরে চাঁদপুরের একটি বিশেষ ধর্মীয় ধারা অনুসরণ করে আসছেন একাংশের মুসল্লিরা। ১৯২৮ সালে চাঁদপুরের সাদ্রা দরবার শরীফের প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা ইসহাক (রহ.) চাঁদ দেখার ভিত্তিতে আগাম রোজা রাখা এবং সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদ্যাপনের রীতি চালু করেন। সেই ঐতিহ্য অনুযায়ী আজও তার অনুসারীরা মধ্যপ্রাচ্যের সময়সূচির সঙ্গে মিল রেখে ধর্মীয় উৎসব পালন করে আসছেন।
এবারের ঈদে জেলার হাজীগঞ্জ উপজেলার সাদ্রা, সমেশপুর, অলীপুর, ভোলাচোঁ, ঝাকনি, সোনাচোঁ, প্রতাপপুর ও সুরঙ্গচাইলসহ একাধিক গ্রামে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
অন্যদিকে ফরিদগঞ্জ উপজেলা এবং মতলব উত্তর উপজেলায় কাইতাড়া, উভারামপুর, টোরামুন্সিরহাট, পাঁচানী, বাহেরচর পাঁচানী, আইটাদি পাঁচানী ও দেওয়ানকান্দিসহ বিভিন্ন গ্রামে ঈদ উদ্যাপন করা হয়।
স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, বুধবার সকাল থেকে সমেশপুর ঈদগাহ মাঠ, সাদ্রা হামিদিয়া ফাজিল মাদ্রাসা মাঠ এবং সাদ্রা দরবার শরীফ মাঠসহ মোট ১২টি ঈদগাহে প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
এর পাশাপাশি উত্তর সাদ্রা বায়তুল সালাম জামে মসজিদ, দক্ষিণ সাদ্রা জামে মসজিদ, উত্তর ও দক্ষিণ অলিপুরের বিভিন্ন মসজিদ, বলাখাল, পাঁচানী ও দেওয়ানজিকান্দিসহ মোট ১৮টি মসজিদেও ঈদের নামাজ আদায় করা হয়।
সব মিলিয়ে চাঁদপুর জেলার প্রায় ৩০টি নির্ধারিত স্থানে এবং আশপাশের ছোট-বড় অসংখ্য জামাতে ঈদুল আজহার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। নামাজ শেষে মুসল্লিরা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি করে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
এরপর ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি শুরু করেন, যা ঈদুল আজহার অন্যতম প্রধান ধর্মীয় অনুশাসন।
মন্তব্য করুন