
পটুয়াখালী জেলার অন্তত ৩০টি স্থানে বৈশ্বিকভাবে চাঁদ দেখার ভিত্তিতে আরবি মাস অনুসরণ করে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করা হয়েছে।
বুধবার (২৭ মে) সকাল ৮টায় দাওয়াতুল ইসলাম বদরপুর দরবার শরীফসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। সকাল থেকেই প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল থেকে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা জামাতস্থলে ভিড় করেন।
ঈদের নামাজ শেষে মুসল্লিরা পশু কোরবানি শুরু করেন এবং একে অপরের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
নামাজ শেষে দেশ, জাতি এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও ঐক্য কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা এতে অংশ নেন।
পটুয়াখালী সদর উপজেলার বদরপুর ও ছোট বিঘাই, গলাচিপা উপজেলার সেনের হাওলা, পশুরীবুনিয়া, নিজ হাওলা ও কানকুনিপাড়া, বাউফল উপজেলার মদনপুরা, শাপলাখালী, বগা, ধাউরাভাঙ্গা, সুরদী, সাবুপুরা ও আমিরাবাদ এবং কলাপাড়া উপজেলার লালুয়া, নিশানবাড়িয়া, মরিচবুনিয়া, উত্তর লালুয়া, মাঝিবাড়ি, টিয়াখালী, ইটবাড়িয়াসহ বিভিন্ন এলাকার মুসল্লিরা এ ঈদ জামাতে অংশ নেন।
দাওয়াতুল ইসলাম বদরপুর দরবার শরীফ কর্তৃপক্ষ জানায়, তারা বৈশ্বিকভাবে কোথাও চাঁদ দেখা গেলে সেই তথ্য নিশ্চিত হওয়ার ভিত্তিতে একই আরবি তারিখ অনুসরণ করে রোজা, ঈদ ও অন্যান্য ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করে থাকে।
তাদের মতে, এতে বিশ্ব মুসলিমের মধ্যে ঐক্য, ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় হয়।
বদরপুর দরবার শরীফ কর্তৃপক্ষ জানায়, ১৯২৮ সাল থেকে এ অঞ্চলের কিছু মানুষ বৈশ্বিক চাঁদ দেখার ভিত্তিতে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব পালন করে আসছেন।
দাওয়াতুল ইসলাম বদরপুর দরবার শরীফের খতিব মাওলানা মো. শফিকুল ইসলাম আব্দুল গনি বলেন, মুসলিম উম্মাহর ঐক্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই আমরা দীর্ঘদিন ধরে বৈশ্বিক চাঁদ দেখার ভিত্তিতে ঈদ পালন করছি। একই দিনে ঈদ উদযাপন বিশ্ব মুসলিমের ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতি আরও শক্তিশালী করবে।
তিনি আরও বলেন, একই আরবি তারিখে বিশ্বব্যাপী রোজা, ঈদ ও কোরবানি পালনের জন্য সরকারের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ প্রয়োজন।
মন্তব্য করুন