
পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে জমে উঠেছে ছোলমবাড়িয়া বালুর মাঠ পশুর হাট। প্রচণ্ড তাপদাহের মধ্যেও কোরবানির পশু কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে হাটে দেখা গেছে ক্রেতা–বিক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়।
বিক্রেতা ও খামারীরা জানান, গত বছরের তুলনায় এ বছর গরুর চাহিদা কিছুটা কম থাকলেও দাম তুলনামূলক বেশি। দূর-দূরান্ত থেকে ট্রাকভর্তি গরু নিয়ে এসে তারা বিক্রির আশায় রয়েছেন।
সোমবার সরেজমিনে দেখা যায়, মোরেলগঞ্জ পৌর শহরের নদীর তীরবর্তী ছোলমবাড়িয়া বালুর মাঠ পশুর হাট এখন অঞ্চলের অন্যতম বড় হাট হিসেবে পরিচিত। বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার খামারি ও ব্যাপারীরা দেশীয় গরুর পাশাপাশি হলস্টেইন ফ্রিজিয়ান, সাইওয়াল, জার্সিসহ বিভিন্ন প্রজাতির গরু নিয়ে এসেছেন। ক্রেতাদের মধ্যে ফ্রিজিয়ান ও সাইওয়াল জাতের গরুর চাহিদা বেশি।
পিরোজপুর জেলার সদর উপজেলার পশ্চিম চালিতাখালী গ্রামের খামার ব্যবসায়ী এনামুল শেখ জানান, তার ১৩টি গরুর মধ্যে ৭টি বিক্রির জন্য হাটে এনেছেন। এর মধ্যে ৩ বছর বয়সী দুটি হলস্টেইন ফ্রিজিয়ান গরুর দাম উঠেছে সাড়ে ৩ লাখ টাকা করে। প্রতিটি গরুর ওজন প্রায় ৮ মণ।
ভাইজোরা গ্রামের জাকারিয়া শেখ ১৫ মণ ওজনের একটি ফ্রিজিয়ান গরুর দাম পেয়েছেন সাড়ে ৩ লাখ টাকা। শরণখোলা উপজেলার দক্ষিণ তাফালবাড়ী গ্রামের কিরন দাস জানান, তার ১০ মণ ওজনের ফ্রিজিয়ান গরু “কালা মানিক”-এর দাম উঠেছে ৪ লাখ টাকা।
পল্লানবাড়ী গ্রামের আব্বাস খা জানান, তিনি সাইওয়াল ও জার্সি জাতের গরু এনেছেন। এর মধ্যে বড় দুটি জার্সি গরুর দাম উঠেছে প্রতি গরু ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা। একইভাবে দয়াবেঞ্জহাটী গ্রামের সুজন মল্লিক জানান, তার সাইওয়াল জাতের ৬টি গরুর দাম ১ লাখ ২০ হাজার থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার মধ্যে উঠেছে।
বিক্রেতারা জানান, প্রচণ্ড তাপদাহের মধ্যেও হাটে ক্রেতাদের উপস্থিতি গত বছরের তুলনায় বেশি। তবে এখনো বিক্রি প্রত্যাশিত পর্যায়ে না পৌঁছালেও বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত বেচাকেনা বাড়বে বলে আশা করছেন তারা।
ক্রেতা সানকিভংগা গ্রামের মাও: আলী হায়দার বলেন, তিনি পাঁচ বছর ধরে এই হাট থেকে কোরবানির পশু কিনছেন। এ বছর প্রতিটি গরুর দাম গত বছরের তুলনায় প্রায় ১০ হাজার টাকা বেশি বলে তার মনে হচ্ছে।
এদিকে হাটে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ, গ্রাম পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবক টিম সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে। প্রাণিসম্পদ দপ্তরের ৪ সদস্যের মেডিকেল টিম গবাদিপশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করছে।
ছোলমবাড়িয়া বালুর মাঠ পশুর হাট ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি নূরুজ্জামান মাতুব্বর বলেন, এটি এ অঞ্চলের অন্যতম বড় হাট। ক্রেতা-বিক্রেতাদের সুবিধার্থে স্বেচ্ছাসেবক টিম ও প্রশাসনের সহযোগিতায় আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণসহ সার্বিক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। খাজনা তুলনামূলক কম এবং গবাদিপশু বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো হচ্ছে।
মন্তব্য করুন