
পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে নোয়াখালী থেকে নওগাঁর দিকে ফিরছিলেন একই এলাকার ৯ জন বন্ধু। বাসভাড়া প্রায় ১৮০০ টাকা বেশি হওয়ায় সাশ্রয়ের জন্য তারা একটি ট্রাকে উঠেছিলেন। কিন্তু সেই সামান্য সাশ্রয়ের সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত হয়ে দাঁড়ায় জীবনের শেষ যাত্রা।
ভয়াবহ এই দুর্ঘটনাটি ঘটে টাঙ্গাইলের বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতু-এর পূর্ব পাড়ে। এতে ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে মিলিয়ে মোট ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে নওগাঁর মান্দা উপজেলার একই এলাকার ৯ জন বন্ধু রয়েছেন। পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নোয়াখালী থেকে ছেড়ে আসা রডবোঝাই একটি ট্রাক ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ধরে যমুনা সেতুর পূর্ব পাশে পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারান। মুহূর্তের মধ্যেই ট্রাকটি উল্টে গিয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনার সৃষ্টি হয়।
দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা উদ্ধার কাজে এগিয়ে আসেন এবং হতাহতদের হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে অনেকেই ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নওগাঁ জেলার নওগাঁর মান্দা উপজেলার মান্দা উপজেলা-এর ১ নম্বর ভারশোঁ ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের ৯ জন তরুণ প্রাণ হারান।
নিহতদের মধ্যে রাজেন্দ্রবাটি গ্রামের বাসিন্দা হলেন মো. সুলতানের ছেলে মোহাম্মদ তারেক, মো. আব্দুর রশিদের ছেলে মো. আব্দুল বারেক, মো. আব্দুর রহিমের ছেলে মোহাম্মদ বাদশা, একাব্বরের ছেলে মো. সোহাগ, মো. শহিদুলের ছেলে মোহাম্মদ রবিউল এবং মোহাম্মদ সাকিমের ছেলে মোহাম্মদ সাগর।
এছাড়া মুর্শিদপুর গ্রামের মৃত জাফর আলীর ছেলে মোহাম্মদ মইনুর ইসলাম এবং পাকুড়িয়া গ্রামের আব্দুর রশিদের দুই ছেলে মোহাম্মদ মাইনুল ও মোহাম্মদ গিয়াসও এই দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন।
নিহত তারেকের বাবা সুলতান হোসেন জানান, তারা নোয়াখালী এলাকায় ফেরি করে মানুষের ফেলে দেওয়া চুল, ভাঙা মোবাইল ও ছোট ছোট প্লাস্টিকের খেলনা বেচাকেনা করতো। ঈদের ছুটিতে বন্ধুবান্ধব মিলে সবাই একসঙ্গে বাড়ি আসছিলেন। বাসে ১৮০০ টাকা ভাড়া বেশি চাচ্ছিল, তাই একটু টাকা বাঁচাতে সবাই মিলে ট্রাকে উঠে। ফেনী থেকে তারা ট্রাকে যাত্রা শুরু করে। কিন্তু এই সামান্য টাকার জন্য তাদের সব শেষ হয়ে গেল।
একই এলাকার ৯ তরুণের একসঙ্গে মৃত্যুতে ভারশোঁ ইউনিয়নসহ পুরো মান্দা উপজেলায় শোকের মাতম চলছে। পরিবারগুলোতে চলছে আহাজারি, প্রিয় সন্তানদের হারিয়ে ভেঙে পড়েছেন বাবা-মা ও স্বজনরা। স্থানীয় প্রশাসন ও এলাকাবাসী মরদেহ নিজ নিজ গ্রামে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
মন্তব্য করুন