মঙ্গলবার
০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

রামিসা হত্যার নেপথ্যে কী? জানালো পুলিশ

ঢাকা অফিস
প্রকাশ : ২০ মে ২০২৬, ১০:৩৭ এএম
হত্যাকাণ্ডের শিকার রামিসা আক্তার।

রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা আক্তারকে হত্যার ঘটনায় নতুন ও চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে পুলিশ। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) জানিয়েছে, প্রধান অভিযুক্ত জাকির হোসেন ওরফে সোহেল রানাকে পালানোর সুযোগ করে দিতে দীর্ঘ সময় ফ্ল্যাটের দরজা বন্ধ রেখেছিলেন তার স্ত্রী স্বপ্না।

মঙ্গলবার রাতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, শিশুটির মা যখন ফ্ল্যাটের দরজায় কড়া নাড়ছিলেন, তখন ভেতরেই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হচ্ছিল। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, অভিযুক্তকে পালানোর সুযোগ দিতেই স্ত্রী স্বপ্না দরজা খুলতে দেরি করেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে মিরপুর-১১ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের ৭ নম্বর সড়কের ৩৯ নম্বর বাড়ির তিনতলার একটি ফ্ল্যাট থেকে রামিসার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড নিয়ে প্রেস ব্রিফিং করেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার এস এন মো. নজরুল ইসলাম।

শিশুটির মস্তকবিহীন দেহ খাটের নিচে পাওয়া যায়। পরে বাথরুম থেকে উদ্ধার করা হয় বিচ্ছিন্ন মাথা। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।

ডিএমপি জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের মাত্র সাত ঘণ্টার মধ্যেই প্রধান অভিযুক্ত জাকির হোসেন এবং তার স্ত্রী স্বপ্নাকে গ্রেফতার করা হয়।

তদন্তে জানা গেছে, জাকির পেশায় রিকশা মেকানিক। তার বিরুদ্ধে নাটোরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলাও রয়েছে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হত্যার পর জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় জাকির। এরপর ফ্ল্যাটের দরজা খোলা হয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের একটি দোকান থেকে বিকাশে পাঠানো টাকা তুলতে গেলে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার এস এন নজরুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে শিশুটির ওপর যৌন নির্যাতন চালানো হতে পারে। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য আলামত সিআইডিতে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, অপরাধ গোপন করতে এবং মরদেহ সরিয়ে ফেলতে দেহ খণ্ডবিখণ্ড করার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে রামিসার মা বিষয়টি টের পেয়ে যাওয়ায় অভিযুক্ত তার পরিকল্পনা সম্পূর্ণ করতে পারেনি।

রামিসা হত্যার ঘটনায় আটক মূল অভিযুক্ত জাকির হোসেন।

তদন্তে আরও জানা যায়, নিহত রামিসার পরিবার প্রায় ১৭ বছর ধরে ওই ভবনে বসবাস করলেও অভিযুক্ত দম্পতি মাত্র দুই মাস আগে বিপরীত পাশের ফ্ল্যাটে ভাড়া ওঠেন।

ঘটনার দিন সকালে রামিসাকে স্কুলে পাঠানোর জন্য খোঁজাখুঁজির সময় তার মা অভিযুক্ত দম্পতির ফ্ল্যাটের সামনে মেয়ের স্যান্ডেল দেখতে পান। এরপর সন্দেহ তৈরি হলে তিনি দরজায় কড়া নাড়তে শুরু করেন।

নিহত রামিসা আক্তার স্থানীয় পপুলার স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। তার বাবা আবদুল হান্নান মোল্লা একটি রিক্রুটিং এজেন্সিতে চাকরি করেন এবং মা পারভীন আক্তার গৃহিণী।

দুই বোনের মধ্যে রামিসা ছিল ছোট। তার বড় বোন রাইসা আক্তার স্থানীয় একটি স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে পল্লবীর মিরপুর-১১ এলাকার ওই ভবনের উত্তর পাশের ফ্ল্যাটে বসবাস করে আসছিল।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

কেশবপুরে ভূমি সহকারীর বাড়িতে অজ্ঞান পার্টির হানা

একনেক সভায় ১০ উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন

জামায়াতের ৮.৩৯ লাখ কোটি টাকার ছায়া বাজেট প্রস্তাব

পুরুষ বন্ধুদের কাছ থেকে উপহার পেতে আনুশকার অস্বস্তি!

মণিরামপুরে নাতনীকে উত্যক্তের প্রতিবাদ করায় নানাকে কুপিয়ে হত্যা, আটক-১

তথ্য উপদেষ্টা / স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে নির্দলীয়, থাকবে না দলীয় প্রতীক

যশোরসহ ২০ অঞ্চলে ঝড়ের সম্ভাবনা

উত্তাল বঙ্গোপসাগর, চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত

ঘুসের টাকা গুনে নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল, বাগমারা থানার পুলিশ পরিদর্শক প্রত্যাহার

মহম্মদপুরে মেয়াদোত্তীর্ণ কীটনাশকে নতুন সিল

রামিসা হত্যা: সোহেল ও স্বপ্না ‘কনডেম সেলে’

কেশবপুরে শরীকানা পুকুরের মাছ লুটের অভিযোগ

রাজশাহীতে বিভাগীয় পর্যায়ে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন

পাবনায় হত্যা মামলার আসামিদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, নিহত ৩

রাজশাহীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ মিছিল

বিশ্ববাজারে আবারও বাড়লো স্বর্ণের দাম

ফের বাড়ল তেলের দাম

বিশ্বকাপ ইতিহাসে পেনাল্টি গোলের রেকর্ডে লিওনেল মেসি

দেশে ফিরলেন ৪৫১৫৮ হাজি, মৃত্যু ৪৯

নওগাঁয় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশ সুপারের সচেতনতামূলক মতবিনিময় সভা

X