
রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা আক্তারকে হত্যার ঘটনায় নতুন ও চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে পুলিশ। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) জানিয়েছে, প্রধান অভিযুক্ত জাকির হোসেন ওরফে সোহেল রানাকে পালানোর সুযোগ করে দিতে দীর্ঘ সময় ফ্ল্যাটের দরজা বন্ধ রেখেছিলেন তার স্ত্রী স্বপ্না।
মঙ্গলবার রাতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, শিশুটির মা যখন ফ্ল্যাটের দরজায় কড়া নাড়ছিলেন, তখন ভেতরেই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হচ্ছিল। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, অভিযুক্তকে পালানোর সুযোগ দিতেই স্ত্রী স্বপ্না দরজা খুলতে দেরি করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে মিরপুর-১১ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের ৭ নম্বর সড়কের ৩৯ নম্বর বাড়ির তিনতলার একটি ফ্ল্যাট থেকে রামিসার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
শিশুটির মস্তকবিহীন দেহ খাটের নিচে পাওয়া যায়। পরে বাথরুম থেকে উদ্ধার করা হয় বিচ্ছিন্ন মাথা। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
ডিএমপি জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের মাত্র সাত ঘণ্টার মধ্যেই প্রধান অভিযুক্ত জাকির হোসেন এবং তার স্ত্রী স্বপ্নাকে গ্রেফতার করা হয়।
তদন্তে জানা গেছে, জাকির পেশায় রিকশা মেকানিক। তার বিরুদ্ধে নাটোরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলাও রয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হত্যার পর জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় জাকির। এরপর ফ্ল্যাটের দরজা খোলা হয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের একটি দোকান থেকে বিকাশে পাঠানো টাকা তুলতে গেলে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার এস এন নজরুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে শিশুটির ওপর যৌন নির্যাতন চালানো হতে পারে। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য আলামত সিআইডিতে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অপরাধ গোপন করতে এবং মরদেহ সরিয়ে ফেলতে দেহ খণ্ডবিখণ্ড করার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে রামিসার মা বিষয়টি টের পেয়ে যাওয়ায় অভিযুক্ত তার পরিকল্পনা সম্পূর্ণ করতে পারেনি।
তদন্তে আরও জানা যায়, নিহত রামিসার পরিবার প্রায় ১৭ বছর ধরে ওই ভবনে বসবাস করলেও অভিযুক্ত দম্পতি মাত্র দুই মাস আগে বিপরীত পাশের ফ্ল্যাটে ভাড়া ওঠেন।
ঘটনার দিন সকালে রামিসাকে স্কুলে পাঠানোর জন্য খোঁজাখুঁজির সময় তার মা অভিযুক্ত দম্পতির ফ্ল্যাটের সামনে মেয়ের স্যান্ডেল দেখতে পান। এরপর সন্দেহ তৈরি হলে তিনি দরজায় কড়া নাড়তে শুরু করেন।
নিহত রামিসা আক্তার স্থানীয় পপুলার স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। তার বাবা আবদুল হান্নান মোল্লা একটি রিক্রুটিং এজেন্সিতে চাকরি করেন এবং মা পারভীন আক্তার গৃহিণী।
দুই বোনের মধ্যে রামিসা ছিল ছোট। তার বড় বোন রাইসা আক্তার স্থানীয় একটি স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে পল্লবীর মিরপুর-১১ এলাকার ওই ভবনের উত্তর পাশের ফ্ল্যাটে বসবাস করে আসছিল।
মন্তব্য করুন