
কোনো ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটির অজুহাত দেখিয়ে রামপাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র যেন বারবার বন্ধ না করা হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাদের কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
রোববার (১৭ মে) বেলা সাড়ে ১১টায় বাংলাদেশ-ভারত যৌথ উদ্যোগে নির্মিত ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন রামপাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই ছিল রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রতিমন্ত্রীর প্রথম আনুষ্ঠানিক সফর।
সভায় শুরুতে বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষ প্রতিমন্ত্রীকে স্বাগত জানায় এবং ভারতের ঐতিহ্যবাহী একটি চাদর পরিয়ে সম্মাননা জানায়। পরে কেন্দ্রটির সার্বিক কার্যক্রম ও বিদ্যুৎ উৎপাদন পরিস্থিতি নিয়ে একটি ভিডিও ডকুমেন্টারি উপস্থাপন করা হয়।
উপস্থাপনা শেষে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “এটি একটি আধুনিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। তাই সামান্য যান্ত্রিক ত্রুটির কারণ দেখিয়ে যেন ঘনঘন শাটডাউন না করা হয়। জাতীয় গ্রিডে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ বজায় রাখতে প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে সর্বদা সতর্ক থাকতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি কেন্দ্রের আশপাশের এলাকার মানুষের কল্যাণেও বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে। স্থানীয় জনগণ যেন এই মেগা প্রকল্পের সুফল ভোগ করতে পারে, সে জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী নাগরিক সেবা সম্প্রসারণেরও আহ্বান জানান তিনি।
মতবিনিময় সভা শেষে প্রতিমন্ত্রী বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিভিন্ন উৎপাদন ইউনিট, নিয়ন্ত্রণ কক্ষ এবং কয়লা ইয়ার্ড ঘুরে দেখেন।
এ সময় স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং রামপাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তিনি মোংলা থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন।
উল্লেখ্য, ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্রজেক্ট চালুর পর বিভিন্ন সময় কয়লা সংকট ও কারিগরি ত্রুটির কারণে উৎপাদন বন্ধ রাখতে হয়েছে। এতে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি গ্রাহকদের লোডশেডিংয়ের ভোগান্তিতেও পড়তে হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে কেন্দ্রটির উৎপাদন সক্ষমতা সচল রাখতে প্রতিমন্ত্রীর এ নির্দেশনাকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
মন্তব্য করুন