
দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার ভাদুরিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে দালাল ছাড়া কোনো ফাইলে হাত না দেওয়া এমন অভিযোগ উঠেছে দায়িত্বরত উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। এতে করে সাধারণ সেবা প্রত্যাশীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন একাধিক ভুক্তভোগী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নামজারি, খারিজসহ বিভিন্ন ভূমি সংক্রান্ত সেবা পেতে হলে অফিসের বাইরে সক্রিয় কিছু দালালের মাধ্যমে যোগাযোগ করতে হয়। দালাল ছাড়া সরাসরি আবেদন করলে ফাইল দীর্ঘদিন ধরে ঝুলিয়ে রাখা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভূক্তভোগি বলেন, আমি ৪ শতক জমি খাজনা ও খারিজের জন্য ২৮ হাজার টাকা দিতে হয় দালাল জাহিদুল ইসলাম কে।আমি গরিব মানুষ আমার থেকে এতটাকা নেওয়া কি ঠিক হয়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, ইউনিয়ন ভূমি অফিসে চাকরি না করেও দালাল জাহিদুল ইসলাম গোপন নথিপত্রের কাজ করেন। সেই সুযোগে ৪ শতক জমি খারিজ করতে আমার কাছ থেকে ২৮ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। আমরা গরিব মানুষ, এভাবে জিম্মি হয়ে গেলে কোথায় যাবো?
আরেক ভুক্তভোগী নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যাক্তি বলেন,আমার খারিজের ফাইল বারবার ঘুরতে থাকে। পরে দালাল ধরার পর দ্রুত কাজ হয়ে যায়। এতে অতিরিক্ত টাকা খরচ করতে হয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত দালাল জাহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, আমি অফিসের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী নই। মাঝে মাঝে স্যারকে কাগজপত্র এগিয়ে দেই এবং অনলাইনে খারিজ আবেদন করতে সহায়তা করি। এজন্য ৫০০ টাকা নিই। ২৮ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়। অনেক সময় সেবাগ্রহীতাদের প্রত্যাশার কারণেও বাড়তি খরচ হয়। আবার এসিল্যান্ড অফিসে গেলেও কিছু চাহিদা থাকে।
ভাদুরিয়া ইউনিয়ন উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা মুখেশ চন্দ্র রায় বলেন, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী খারিজ করতে প্রায় ১ হাজার ১৭০ টাকা খরচ হয়। এর বাইরে কোনো নির্ধারিত ফি নেই। ৪ শতক জমি খারিজে ২৮ হাজার টাকা নেওয়ার বিষয়টি আমার জানা নেই।
এ বিষয়ে নবাবগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাজিদ-উল মাহমুদ বলেন, এ বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মন্তব্য করুন