
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতি বিজড়িত নওগাঁর আত্রাই উপজেলার পতিসরে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে কবির ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী পালিত হয়েছে। আজ শুক্রবার (০৮ মে) সকাল সাড়ে ১০টায় সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় এবং জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে রবীন্দ্র কাচারি বাড়ির দেবেন্দ্র মঞ্চে জাতীয় সংগীতের সুর মূর্ছনায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও বেলুন-ফেস্টুন উড়িয়ে দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
নওগাঁ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ নম বজলুর রশীদ। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমি মন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী উমর খৈয়াম (আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম), জাতীয় সংসদের হুইপ অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু এবং নওগাঁর বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্যবৃন্দ—শেখ রেজাউল ইসলাম রেজু (নওগাঁ-৬), মো. মোস্তাফিজুর রহমান (নওগাঁ-১), মো. এনামুল হক (নওগাঁ-২), ফজলে হুদা (নওগাঁ-৩), ইকরামুল বারী টিপু (নওগাঁ-৪) এবং মো. জাহিদুল ইসলাম ধলু (নওগাঁ-৫)। এছাড়াও সাবেক রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহানসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী পর্ব শেষে ‘রবীন্দ্রনাথ ও বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় আলোচক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রফেসর ড. মো. হারুন অর রশীদ। বক্তারা কবির কর্মময় জীবনের ওপর আলোকপাত করে বলেন, ১৮৯১ সালে পতিসরে প্রথম আগমনের পর থেকে ১৯৩৭ সাল পর্যন্ত কবি বারবার এই নিভৃত পল্লীতে ফিরে এসেছেন। এখানে বসেই তিনি ‘আমাদের ছোট নদী’, ‘তালগাছ’, ‘দুই বিঘা জমি’ এবং বিখ্যাত উপন্যাস ‘গোড়া’সহ অসংখ্য কালজয়ী সাহিত্যকর্ম রচনা করেছেন।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে ছিল মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, যা গোলাম সাকলাইন ও সিঁথি সাহা যৌথভাবে উপস্থাপনা করেন। এতে নওগাঁ জেলা শিল্পকলা একাডেমি, রানীনগর ও আত্রাই উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির কলাকুশলীরা রবীন্দ্রসংগীত, নৃত্য এবং কবিতা আবৃত্তি পরিবেশন করেন। এছাড়াও স্থানীয় রবীন্দ্র গবেষক ও লোকজ শিল্পীরা এই আয়োজনে অংশগ্রহণ করেন।
বিশ্বকবির জন্মবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে পতিসর ও আশপাশের গ্রামগুলোতে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। সকাল থেকেই রবীন্দ্র অনুরাগী, সরকারি কর্মকর্তা এবং সাধারণ মানুষের পদচারণায় দেবেন্দ্র মঞ্চের পাদদেশ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। সরকারিভাবে একদিনের কর্মসূচি থাকলেও স্থানীয়ভাবে পতিসর কাচারি বাড়ি প্রাঙ্গণে কয়েকদিন ধরে উৎসব ও গ্রামীণ মেলা চলবে। কবির স্মৃতিধন্য নাগর নদীর তীরের এই মিলনমেলা স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে।
মন্তব্য করুন