
যশোরের কেশবপুর উপজেলায় আশঙ্কাজনক হারে ডায়রিয়ার প্রকোপ ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। এতে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও উদ্বেগে রয়েছে। রোগীর চাপ আরও বাড়লে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্যালাইনের সংকট দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) পর্যন্ত গত এক সপ্তাহে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন ১০৭ জন। এছাড়া বহির্বিভাগ থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন আরও ২২ জন রোগী।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৭ জন ডায়রিয়া রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আগে থেকে ভর্তি ছিলেন আরও ৬ জন। আক্রান্তদের মধ্যে শিশু ও বয়স্ক রোগীর সংখ্যাই বেশি।
হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে রয়েছেন মূলগ্রামের মফিজুর রহমান (৩৫), মোবারেক গাজী (৬৫), কাস্তা গ্রামের নাফিজ (২৫), হাবাসপোল গ্রামের জাহিদুল ইসলাম (৩০), কলাগাছি গ্রামের ফিরোজা খাতুন (৫০), ব্রহ্মকাটি গ্রামের মোমেনা খাতুন (৬০), মণিরামপুর উপজেলার খাজুরা গ্রামের সালেহা খাতুন (৫০), দূর্বাডাঙ্গা গ্রামের আয়শা খাতুন (৭), মনোহরপুর গ্রামের রাকিব হাসান (৫ মাস), গড়ভাঙ্গা গ্রামের আব্দুল মজিদ বিশ্বাস (৭০) ও ভাইশা গ্রামের নোমান সাদি (৫)সহ আরও অনেকে।
এছাড়া বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আরও ৮ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে তিনজন শিশু রয়েছে।
হাসপাতালে ভর্তি রোগী কাস্তা গ্রামের নাফিজ অভিযোগ করে বলেন, “সকালে ডাক্তার একবার দেখে যান। এরপর সারাদিন আর আসেন না। নার্সদের ডাকলে অনেক সময় রাগারাগি করেন। বাইরে থেকে স্যালাইন কিনে আনতে বলা হয়। স্যালাইন আনার পরও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়।”
৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় অনেককে বারান্দায় অবস্থান করে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত এক সপ্তাহ ধরে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. রেহেনেওয়াজ বলেন, “হাসপাতালে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছেন ২৬ জন। এক সপ্তাহে মোট ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১০৭। রোগীর চাপ আরও বাড়লে স্যালাইনের সংকট দেখা দিতে পারে।”
মন্তব্য করুন