
পাবনার ঈশ্বরদীর লিচু মিষ্টতা ও রসালতার জন্য সারা দেশেই সুপরিচিত। কিন্তু সেই খ্যাতিকে কাজে লাগিয়ে কিছু বাগানমালিক ও ব্যবসায়ী আগাম লাভের আশায় অপরিপক্ব লিচু বাজারে তুলছেন। আজ সকালে পাবনা শহরের হামিদ সড়ক ও ঈশ্বরদী পৌর বাজারসহ আশপাশের বিভিন্ন হাটে কাঁচা ও স্বাদহীন লিচুর ছড়াছড়ি দেখা গেছে। জ্যৈষ্ঠ মাস আসার আগেই বৈশাখে বাজারে লিচু উঠতে শুরু করেছে। যদিও এগুলোর বেশিরভাগই এখনো পুরোপুরি পাকা নয়।
স্বাদে টক এবং গুণগত মান কম হওয়া সত্ত্বেও মৌসুমের নতুন ফল হিসেবে ক্রেতারা তুলনামূলক বেশি দাম দিয়েই কিনছেন।
লিচু চাষিরা জানান, চলমান তীব্র গরমে গাছ থেকে লিচু ঝরে পড়ছে। ক্ষতি এড়াতে তারা আগেভাগেই লিচু সংগ্রহ করছেন। তবে কৃষি বিভাগের মতে, এ ধরনের ঝরে পড়া স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার মধ্যেই পড়ে। প্রকৃতপক্ষে মোজাফফর বা আঁটি জাতের লিচু কমপক্ষে ১০ থেকে ১৫ দিন আগেই বাজারে তোলা হচ্ছে, যা এখনো পরিপক্ব হয়নি। এতে ভোক্তারা লিচুর আসল স্বাদ ও পুষ্টিগুণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
বাজারে নতুন ফল হিসেবে দামও তুলনামূলক বেশি। বর্তমানে ১০০ পিস দেশি লিচুর এক ঝোপা ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা অনেক সময় ক্যারেটে লিচু সাজিয়ে আংশিক প্রদর্শন করে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করছেন।
বাজারে সকালবেলায় যে লিচু ২৮০-৩০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, একই লিচু দুপুরে পৌর বাজারে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। ক্রেতা রুবেল আলী জানান, নতুন ফলের আকর্ষণে পরিবারের আবদার মেটাতে লিচু কিনছেন, তবে বেশিরভাগই কাঁচা হওয়ায় কাঙ্ক্ষিত স্বাদ পাচ্ছেন না। এদিকে চিকিৎসকেরা অপরিপক্ব লিচু খাওয়া থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ভালো মান ও স্বাদ নিশ্চিত করতে মোজাফফর জাতের লিচু আরও অন্তত ১০-১৫ দিন পর সংগ্রহ করা উচিত।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এখনই বাজারজাত করলে লিচুর ওজন ও মিষ্টতা দুটিই কম থাকবে।এ বছর ঈশ্বরদীতে প্রায় ৩ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে লিচুর আবাদ হয়েছে।
দেশি আঁটি ছাড়াও বোম্বাই, চিলি বোম্বাই ও চায়না-থ্রি জাতের লিচু উৎপাদিত হচ্ছে, যা দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মমিন জানান, গাছে এখনো পর্যাপ্ত গুটি রয়েছে এবং ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি বলেন, লিচুর প্রকৃত স্বাদ ও পুষ্টিগুণ পেতে হলে অবশ্যই পরিপক্ব হওয়ার পরই সংগ্রহ ও বাজারজাত করা উচিত।
মন্তব্য করুন