
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলায় গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৬টি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে প্রায় ৩০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।
সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের বাদশা মিয়ার হাট বাজারে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আব্দুল আলীম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
ক্ষতিগ্রস্ত ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতে হঠাৎ আগুন ধরে গিয়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এতে আউয়াল মৃধার ইলেকট্রনিক্স দোকান, গোলক মন্ডলের ওষুধের দোকান, শেখর চন্দ্র হালদারের ওষুধের দোকান, জাকারিয়া মুন্সীর মুদি মনোহারি দোকান, সুমন শেখের গার্মেন্টস দোকান এবং চিত্ত দত্তের সিট কাপড় ও টেইলার্সসহ মোট ৬টি দোকান পুড়ে যায়।
মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা সড়কে চলাচলকারী যাত্রীবাহী পরিবহনের লোকজন আগুন দেখে স্থানীয়দের খবর দেন। পরে স্থানীয়রা ৯৯৯-এ ফোন করলে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ততক্ষণে দোকানগুলো সম্পূর্ণ পুড়ে গিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী আউয়াল মৃধা জানান, তার দোকানে থাকা ৬৫টি মাইকের ইউনিট, ৪৫টি হর্ন, ৩৭টি মাইক সেটসহ বিভিন্ন মালামাল পুড়ে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। অপর ব্যবসায়ী শেখর চন্দ্র হালদার বলেন, খবর পেয়ে এসে দেখেন দোকানগুলোতে আগুন জ্বলছে। তাদের ধারণা, আউয়াল মৃধার দোকান থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়।
স্থানীয়দের ধারণা, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট বা ব্যাটারি চার্জ থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে।
মঙ্গলবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আব্দুল আলীম ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্তরা যাতে আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারেন, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে এবং পরীক্ষা শেষে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করে সহায়তার ব্যবস্থা করবেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর অফিস সেক্রেটারি ও নিশানবাড়িয়া ইউনিয়ন সভাপতি অধ্যাপক হাবিবুল্লাহ তালুকদার, উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল মান্নানসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
মন্তব্য করুন