
সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বড়দল ইউনিয়নের নড়েরাবাদ-চম্পাখালী মৌজায় বায়ার কোম্পানির কীটনাশক ব্যবহারে তরমুজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় কৃষক ও এলাকাবাসী। মঙ্গলবার (৫ মে) বিকালে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তরমুজ ক্ষেতে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা জানান, বায়ার কোম্পানির কৃষি পরামর্শদাতার পরামর্শে কীটনাশক ব্যবহার করে কৃষক পবিত্র মন্ডলের প্রায় ১০০ বিঘা জমির তরমুজ নষ্ট হয়ে গেছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের ক্ষতিপূরণ, ঘটনার তদন্ত এবং দায়ীদের শাস্তির দাবি জানানো হয়।
এসময় বক্তব্য রাখেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পবিত্র মন্ডল, নিবেদিতা মন্ডল, কুমারেশ মন্ডল, নাথুরাম মন্ডল, তুষার কান্তি সানা, কনিকা মন্ডল ও যতীন্দ্র নাথ মন্ডলসহ অন্যরা।
বক্তারা বলেন, চলতি মৌসুমে প্রায় ১০০ বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করেন পবিত্র মন্ডল। শুরুতে গাছের বৃদ্ধি ও ফলন ভালো ছিল। প্রতিটি তরমুজের ওজন ২৫০ গ্রাম থেকে দেড় কেজি পর্যন্ত হয়েছিল। কিন্তু পরে ক্ষেতে রোগ দেখা দিলে কৃষি অফিসে যোগাযোগ করা হয়। কর্মকর্তারা পরিদর্শন করে পরামর্শ দিলেও বায়ার কোম্পানির ফিল্ড অফিসার বিশ্বরাম মন্ডল ফোন ও সরাসরি এসে তাদের কীটনাশক ব্যবহারে উৎসাহিত করেন।
তার পরামর্শ অনুযায়ী গত ৮ এপ্রিল প্রথম দফায় ওষুধ প্রয়োগ করা হলেও কোনো উন্নতি হয়নি। পরে দ্বিতীয়বার স্প্রে করার পর পুরো ক্ষেত হলুদ হয়ে যেতে শুরু করে। অভিযোগ করা হলে কোম্পানির পক্ষ থেকে সার ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে বিশ্বরাম মন্ডল ঘটনাস্থলে এসে ওষুধে ক্ষতি হয়নি বলে দাবি করেন। অভিযোগ রয়েছে, পরদিন ৩০-৩৫ জনের একটি দল এসে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে এবং মারধরের চেষ্টা করে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক জানান, তরমুজ চাষে তার প্রায় ৩২ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। আর মাত্র ১০-১৫ দিনের মধ্যে ফসল বাজারজাত করার কথা ছিল। কিন্তু হঠাৎ এ ক্ষতিতে তিনি সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছেন।
মানববন্ধনে বক্তারা দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের ক্ষতিপূরণের দাবি জানান। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, কৃষি কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।
মন্তব্য করুন