
ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায় আসন্ন কোরবানির ঈদে পশুর চাহিদার তুলনায় উদ্বৃত্ত রয়েছে ৫ হাজারের বেশি। স্থানীয় খামারিরা ইতোমধ্যে তাদের পশু বাজারজাতের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন।
উপজেলায় ছোট-বড় অসংখ্য পশুর খামার রয়েছে, যেগুলো থেকে এবার কোরবানির জন্য পর্যাপ্ত পশু সরবরাহের আশা করা হচ্ছে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী, উপজেলায় মোট গবাদিপশু রয়েছে ৪৪ হাজার ৩৬৫টি। এর মধ্যে গরু ১২ হাজার ২০৫টি, মহিষ ২০টি, ছাগল ৩১ হাজার ২২০টি এবং ভেড়া ৯২০টি। অন্যদিকে, এবারের কোরবানির ঈদে পশুর চাহিদা ধরা হয়েছে ৩৯ হাজার ২৩২টি। ফলে চাহিদার তুলনায় উদ্বৃত্ত রয়েছে ৫ হাজার ১৩৩টি পশু।
স্থানীয় খামারি ইসমাইল হোসেন পলাশ জানান, তার খামারে ২০টির বেশি গরু বিক্রয়ের জন্য প্রস্তুত রয়েছে, যার প্রতিটির দাম ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা হতে পারে বলে তিনি আশা করছেন। তিনি বলেন, “সঠিকভাবে বাজারজাত করা গেলে আমরা লাভবান হব।”
তবে সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় ভারতীয় গরুর অনুপ্রবেশ নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করেছেন খামারিরা। তাদের আশঙ্কা, অবৈধ গরু প্রবেশ করলে দেশীয় খামারিরা ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন। এ বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
মহেশপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. নুর আলম জানান, মাঠ পর্যায়ে সার্বক্ষণিক নজরদারি চলছে এবং খামারিদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, “এবারের পশুগুলো স্বাস্থ্যবান ও পর্যাপ্ত, কোরবানিতে কোনো ঘাটতি হবে না।”
এদিকে, ৫৮ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রফিকুল আলম জানিয়েছেন, সীমান্তে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং অবৈধভাবে গরু প্রবেশের কোনো সুযোগ নেই।
স্থানীয় নারী উদ্যোক্তারা জানান, তারা এক বছর ধরে গরু লালন-পালন করছেন এবং ভালো দামে বিক্রির আশা করছেন।
মন্তব্য করুন