
ভারতীয় কিছু গণমাধ্যমে সীমান্তে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিষধর সাপ ও কুমির ছাড়ার পরিকল্পনার খবর প্রকাশের পর বাংলাদেশের লালমনিরহাট জেলার বিস্তীর্ণ সীমান্ত এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে এই পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে সাপের বিষ ও কুমিরের চামড়ার চোরাচালান বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম, হাতীবান্ধা, কালীগঞ্জ, আদিতমারী ও সদর উপজেলার বিস্তীর্ণ অংশ ভারতীয় সীমান্তঘেঁষা। প্রায় ২৮১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সীমান্ত এলাকায় বন, জঙ্গল, নদী ও আবাদি জমি থাকায় স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকা এসব প্রাকৃতিক পরিবেশের ওপর নির্ভরশীল।
তবে সাম্প্রতিক গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই মাঠে কাজ করতে বা নদীতে নামতে ভয় পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
কালীগঞ্জ উপজেলার চন্দ্রপুর সীমান্তের বাসিন্দা মো. আব্দুল লতিফ বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের খবর ছড়ানোর পর থেকেই মানুষ আতঙ্কিত। জঙ্গল, খাল-বিল ও নদীতে কাজ করতে গিয়ে অনেকে ভয়ে আছেন।
অন্যদিকে আরেক বাসিন্দা মো. মুকুল হোসেন বলেন, “ভারতের পক্ষ থেকে এমন কিছু করা হয়েছে কি না, আমরা নিশ্চিত নই। তবে এই খবর শুনে সবাই চিন্তিত।”
এ বিষয়ে ১৫ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম বলেন, বিএসএফ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে এ ধরনের কোনো পরিকল্পনার কথা জানায়নি। তাই বিষয়টি আমরা গুজব হিসেবেই দেখছি।
তিনি জানান, অতীতে কোথাও কোথাও সীমান্ত পাহারায় প্রাণী ব্যবহারের নজির থাকলেও বর্তমান সময়ে তা অকার্যকর এবং অমানবিক।
তিনি আরও বলেন, সীমান্তে মাদক, চোরাচালান ও অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি কাজ করছে। তবে সাপের বিষ ও কুমিরের চামড়া মূল্যবান হওয়ায়, এসব নিয়ে নতুন করে চোরাচালান চক্র সক্রিয় হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। সাপের বিষে মূল্যবান ওষুধ ও কুমিরের চামড়ার মূল্যবান সামগ্রী তৈরি হয়ে থাকে। সাপের বিষ ও কুমিরের চামড়ার আন্তর্জাতিক বাজার অনেক চড়া।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পরিবেশবিদরাও। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তুহিন ওয়াদুদ বলেন, যদি বাস্তবে এ ধরনের কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়, তাহলে তা পরিবেশ ও মানবজীবনের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।
সব মিলিয়ে, সীমান্তে সাপ ও কুমির ব্যবহারের বিষয়টি এখনও নিশ্চিত নয়। তবে গুজবের প্রভাবেই সীমান্ত এলাকায় ভীতি তৈরি হয়েছে এবং একই সঙ্গে বেড়েছে সম্ভাব্য চোরাচালান নিয়ে উদ্বেগ।
মন্তব্য করুন