
যেদিকে চোখ যায়, মাঠজুড়ে সবুজ ধান খেত। বাতাসে দুলছে বোরো ধানের কচি গাছ গুলো। এ রকম বেড়ে ওঠা ধানগাছে কৃষকের মন ভরে ওঠার কথা। কিন্তু মন ভালো নেই কৃষকদের। উদ্বেগ, উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে। পানির অভাবে বোরো ধানের খেতের মাটি শুকিয়ে যাচ্ছে। অনেক জমিরই মাটি শুকিয়ে ফেটে গেছে। দ্রুত পানির ব্যবস্থা করা না গেলে ধানগাছ বাঁচিয়ে রাখা কঠিন হবে।
খালগুলো দ্রুত খনন ও পরিষ্কার করে পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন প্রান্তিক কৃষকেরা। সেচের অভাবে বোরো খেত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। খাল যদি খনন করা না হয়, তাহলে কৃষকেরা ক্ষতির সম্মুখীন হবেন। অনেক কৃষক ঋণ করে চাষাবাদ করেছেন। ফসল না হলে তাঁদের ঋণের বোঝা বইতে হবে।’
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ধুলাসার ইউনিয়নের তারিকাটা এলাকার কৃষক আল আমিন বোরো ধানের চাষ করেছেন। জমিতে অল্প কিছু সেচ দেন। তপ্ত রোদে সেই পানি পুরোপুরি শুকিয়ে গেছে। এখন পানির অভাবে মাটি ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। দিন গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ধানের চারা ফ্যাকাসে হয়ে যাচ্ছে, অথচ খেতের পাশেই থাকা ডিজেল চালিত মেশিন যেন এখন একপ্রকার অচল। কারণ, কোথাও মিলছে না ডিজেল।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পুরো জেলাতেই ডিজেলচালিত সেচ মেশিন ওপর নির্ভরশীল কৃষকেরা এমন সংকটে পড়েছেন। প্রতিদিন তেলের পাম্প ও খুচরা দোকানে ঘুরেও তাঁরা তেল সংগ্রহ করতে পারছেন না। মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য যানবাহনের চাপের কারণে কৃষকদের জন্য তেল পাওয়া আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।
উপজেলার ধুলাসার ইউনিয়নের নয়াকাটা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, চোখ যত দূর যায়, শুধু ধানখেত। নয়াকাটা নদ পেরিয়ে মাটির সরু পথ ধরে এগোতেই একটি ধানখেতের পাশে চোখে পড়ে, একটি ডিজেলচালিত সেচ মেশিন পড়ে আছে। পাশেই বসে আছেন কৃষক মোহাম্মদ ইউনুছ। তাঁর মুখে স্পষ্ট উদ্বেগের ছাপ। কাছে গিয়ে দেখা যায়, সেচ চালিত মেশিন চালু করার মতো তেল নেই। পানির অভাবে ধানের চারা ফ্যাকাসে হয়ে পড়ছে। তেলের অভাবে সেচ দিতে না পেরে তিনিও উদ্বিগ্ন। পাম্পে বারবার যাই, ঘন্টার পর ঘন্টা ঘুরেও খালি হাতেই ফিরে আসতে হয়। কোনো কোনো সময় হঠাৎ করে এক-দুই লিটার তেল দেয়, কিন্তু এই সামান্য তেলে আমাদের কাজ চলে না। মাটি ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। ধান এখন থোড় হওয়ার সময়, এ সময় নিয়মিত পানি দরকার। কিন্তু পানি দিতে পারছি না। এখন যদি সেচ দিতে না পারি, তাহলে আমাদের বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে যাবে।' এখন প্রায় সবই অচল। একের পর এক খেত ঘুরে একই চিত্র দেখা যায়। কোথাও পানি নেই, সব জমির মাটি শুকিয়ে ফেটে গেছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাহিদ হাসান জানান, এ বছর পাঁচ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে বোরোর আবাদ হয়েছে। যেখানে গত বছর আবাদ হয়েছিল ৩৩৮০ হেক্টরে। চাষির সংখ্যা অন্তত সাত হাজার। এ বছর সবচেয়ে বেশি আবাদ হয়েছে নীলগঞ্জ ইউনিয়নে। সেখানকার কৃষকরা কোনো ধরনের চিন্তাা ধারণা ছাড়াই আবাদ করেছেন। খালে যে পরিমাণ পানি ছিল তাতে যতটুকু জমিতে বোরোর আবাদ করা যাবে তার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি জমিতে আবাদ করেছেন। এখন পানির সমস্যা নিয়ে কৃষক ভুগছে।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কাওছার হামিদ জানিয়েছেন, কৃষকদের অগ্রাধিকার দিয়ে ডিজেল সরবরাহের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে কিছু হারভেস্টার মেশিনে তেল দেওয়া হয়েছে এবং বোরো চাষে যাতে ক্ষতি না হয়, সে জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
মন্তব্য করুন