
ফরিদপুরের ভাঙ্গা পৌর এলাকায় এক সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত শেখ রাজু ইসলাম (৩৬) গোপালগঞ্জ উপজেলা সদরে কর্মরত ছিলেন।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ভাঙ্গা পৌরসভার পূর্ব হাসামদিয়া এলাকার ‘মাতৃকুঞ্জ’ নামের একটি আবাসিক ভবনের চতুর্থ তলার ভাড়া বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, তিনি সাতক্ষীরা জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার মউতলা গ্রামের বাসিন্দা এবং নুরুল ইসলাম শেখের ছেলে। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ভাঙ্গা পৌরসভার আতাদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা হ্যাপি আক্তারের স্বামী। তাদের দুই কন্যা সন্তান রয়েছে।
পরিবার ও স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার দুপুর আনুমানিক ১টা থেকে দেড়টার মধ্যে ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে রশি দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় তাকে দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে নিচে নামানো হয়।
নিহতের স্ত্রী হ্যাপি আক্তার জানান, দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে তিনি বাসায় ফোন করলে মেয়েরা জানায়, তাদের বাবা ঘরের ভেতরে গলায় রশি দিয়েছেন। খবর পেয়ে দ্রুত বাসায় এসে তিনি স্বামীর ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান।
নিহতের যমজ ভাই শেখ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, মায়ের ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে কিছুক্ষণ পরই ওপরতলা থেকে চিৎকার শুনে দৌড়ে গিয়ে ভাইয়ের মরদেহ দেখতে পান। এ ঘটনায় পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেছে। প্রাথমিক সুরতহাল শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।
পুলিশ জানিয়েছে, এটি আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে নিহতের সহকর্মী ও স্বজনদের সঙ্গেও কথা বলা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন