
মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ি উপজেলায় এক হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে, যেখানে বজ্রপাতে নিহত এক তরুণের কবর রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন তার বৃদ্ধ বাবা। নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কা ও ‘লাশ চুরি’র ভয়ের কারণে তিনি ঋণ করে লোক রেখেও এই পাহারার ব্যবস্থা চালিয়ে যাচ্ছেন।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাত ৯টার দিকে উপজেলার কামারখাড়া সামাজিক কবরস্থানে সরেজমিনে দেখা যায়, বজ্রপাতে নিহত আরাফাতের কবরের পাশে বসে আছেন তার বাবা জসিম খান। রাতভর তিনি সন্তানের কবর রক্ষার জন্য সেখানে অবস্থান করছেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, দাফনের পর থেকেই প্রতিরাতে কবরের পাশে পাহারা বসানো হচ্ছে, যাতে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে।
জসিম খান জানান, তার ছেলে আরাফাত দর্জির কাজ করে সংসার চালাত। গরুর জন্য ঘাস আনতে গিয়ে বজ্রপাতে তার মৃত্যু হয়। এরপর থেকেই তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন।
তিনি বলেন, অনেকের মুখে শুনেছি বজ্রপাতে মারা গেলে লাশ চুরির ঘটনা ঘটে। সেই ভয় থেকেই আমি কবর পাহারা দিচ্ছি। আমি অসুস্থ মানুষ, সবসময় থাকতে পারি না, তাই ঋণ করে লোক রেখেছি।
তিনি আরও বলেন, আমি অসুস্থ মানুষ, সবসময় থাকতে পারি না। ঋণ করে লোক রেখে কবর পাহারা দিতে হচ্ছে। নিজের সংসারই ঠিকমতো চালাতে পারছি না। তবুও ছেলের কবর রক্ষায় প্রতিদিন খরচ করতে হচ্ছে। প্রশাসন যদি কবর পাহারার ব্যবস্থা করত, তাহলে কিছুটা শান্তি পেতাম।
স্থানীয় বিপু মাতব্বর বলেন, কিছু দুষ্কৃতিকারী আমাদের এলাকা থেকে প্রায়ই মরদহ চুরি করে নিচ্ছে। বজ্রপাতে মারা গেলে ওই মরদেহের দাম নাকি অনেক বেশি। যার কারণে সেই ভয় আশংকা থেকেই পরিবারটি রাত জেগে তাদের সন্তানের লাশ পাহারা দিচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিষয়টি অত্যন্ত মানবিক এবং উদ্বেগজনক। তারা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে কবরস্থানের নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন, যাতে পরিবারটি এমন মানসিক চাপ থেকে মুক্তি পায়।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার হাইয়ার পার এলাকায় বজ্রপাতে আরাফাত খান নামে ওই যুবকের মৃত্যু হয়। দাফনের পর থেকেই তার পরিবার কবরের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগে রয়েছে এবং প্রতিরাতে পাহারা দিয়ে আসছে।
মন্তব্য করুন