
অবশেষে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং কার্যক্রমের জন্য লাইসেন্স ক্লিয়ারেন্স দিয়েছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ। এতে চলতি এপ্রিলের শেষের দিকেই জ্বালানি লোডিং শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সবকিছু ঠিক থাকলে, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই ধাপে ধাপে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বৃহস্পতিবার বিষয়টি নিশ্চিত করে সংস্থাটির চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান বলেন, পূর্বনির্ধারিত ৭ এপ্রিল উদ্বোধনের পরিকল্পনা থাকলেও কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ইস্যুর কারণে তা স্থগিত করা হয়। পরবর্তীতে সেসব সমাধান করে এখন জ্বালানি লোডিংয়ের জন্য অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তিনি আরও জানান, সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য এবং ফুয়েল লোডিংয়ের সময় তিনি নিজে উপস্থিত থাকবেন।
এদিকে নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জাহেদুল হাসান জানান, অগ্নিনিরাপত্তাসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতিমূলক কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই ফিজিক্যাল স্টার্টআপের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
এর আগে লাইসেন্স না থাকায় ৭ এপ্রিল জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। যদিও উদ্বোধনের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়-এর তত্ত্বাবধানে। প্রসঙ্গত, রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তির ভিত্তিতে নির্মিত এই প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১২.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০১৩ সালে চুক্তি স্বাক্ষরের পর ২০১৫ সালে নির্মাণকাজ শুরু হয়। প্রথম ইউনিট থেকে ১২০০ মেগাওয়াট এবং দ্বিতীয় ইউনিট থেকে আরও ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রসংগত: এর আগে বায়রা লাইসেন্স প্রদান না করায় নির্ধারিত চলতি মাসের ৭ এপ্রিল রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র-এর প্রথম ইউনিটে জ্বালানি (ইউরেনিয়াম) লোডিং কার্যক্রম স্থগিত করা হয় । বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সার্বিক তত্ত্বাবধান ও দিকনির্দেশনায় জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম ৭ এপ্রিল উদ্বোধনের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। ঢাকার নভোথিয়েটার থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ভার্চুয়ালি জ্বালানী লোডিং কার্যক্রম উদ্বোধনের কথা ছিল। উদ্বোধনের জন্য অন্যান্য প্রস্তুতি গ্রহন করা হলেও জ্বালানী লোডিং কার্যক্রম শুরু করা এসময় সম্ভব হয় না।
দেশের সবচেয়ে ব্যয়বহুল এ প্রকল্পটি দীর্ঘ সময়ের নানা জটিলতা পেরিয়ে এখন দৃশ্যমান পর্যায়ে পৌঁছেছে। এর আগেও একাধিকবার উৎপাদন শুরুর সময় পিছিয়েছে। প্রায় দুই বছর আগে রাশিয়া থেকে প্রথম ইউনিটের জন্য ইউরেনিয়াম জ্বালানি দেশে আনা হলেও তা এখনো ব্যবহার করা যায়নি।
জ্বালানি লোডিংয়ের আগে International Atomic Energy Agency-এর তত্ত্বাবধানে Bangladesh Atomic Energy Regulatory Authority থেকে লাইসেন্স নেওয়া বাধ্যতামূলক। জ্বালানী লোডিং এর লাইসেন্স পাবার আগে দুই দেশের (বাংলাদেশ ও রাশিয়া) সরকার প্রধানের সময় নিয়ে উদ্বোধনের তারিখ নির্ধারণ করায় এসময় অস্বস্তিতে পড়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়।
বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা বাড়ছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের কারণে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এতে বাংলাদেশে গ্যাস ও বিদ্যুৎ খাতে চাপ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প উৎস হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। উল্লেখ্য, রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তির ভিত্তিতে নির্মিত এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ১২.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় এক লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকা)। ২০১৩ সালে চুক্তি স্বাক্ষর এবং ২০১৫ সালে নির্মাণকাজ শুরু হয়।
প্রথম ইউনিটের নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে এবং ২০২৭ সালের প্রথমার্ধে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর লক্ষ্য রয়েছে। দ্বিতীয় ইউনিটের কাজ চলমান, যা আগামী বছরের শেষ নাগাদ শেষ হতে পারে। পুরো প্রকল্প ২০২৮ সালের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।
সবকিছু ঠিক থাকলে, প্রথম ইউনিট থেকে ১২০০ মেগাওয়াট এবং পরবর্তীতে দ্বিতীয় ইউনিট থেকে আরও ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।
মন্তব্য করুন