
রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী রমনার বটমূল-এ নতুন বছরের সূর্যোদয়ের সঙ্গে শুরু হয়েছে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ বরণের আয়োজন। ছায়ানট-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রভাতী অনুষ্ঠানে সম্মিলিত কণ্ঠে ‘জাগো আলোক-লগ্নে’ গান পরিবেশনের মাধ্যমে নতুন বছরকে স্বাগত জানানো হয়।
সকাল সোয়া ৬টায় শুরু হওয়া এই আয়োজন মুহূর্তেই পরিণত হয় বাঙালির মিলনমেলায়। নানা বয়স ও শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। উদ্বোধনী সংগীতের পর ধারাবাহিকভাবে পরিবেশিত হয় রবীন্দ্রসংগীত—‘এ কী সুগন্ধহিল্লোল বহিল’, ‘তোমার হাতের রাখীখানি বাঁধো আমার দক্ষিণ হাতে’ এবং ‘বাজাও আমারে বাজাও’।
এবারের অনুষ্ঠানে বাংলা সংগীতের কিংবদন্তি স্রষ্টাদের গান বিশেষভাবে স্থান পেয়েছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, লালন সাঁই, দ্বিজেন্দ্রলাল রায় এবং সলিল চৌধুরী-এর সৃষ্টিগুলো পরিবেশনের মাধ্যমে তুলে ধরা হচ্ছে বাংলা সংস্কৃতির বহুমাত্রিক ঐতিহ্য।
অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন খ্যাতিমান শিল্পীরা—খায়রুল আনাম শাকিল, লাইসা আহমদ লিসা, নাসিমা শাহীন, চন্দনা মজুমদার, ভাস্বর বন্দ্যোপাধ্যায়, শারমিন সাথী ইসলাম ময়নাসহ আরও অনেকে।
প্রভাতী এই আয়োজনে মোট ২২টি গান পরিবেশিত হচ্ছে—এর মধ্যে ৮টি সম্মিলিত ও ১৪টি একক কণ্ঠে। পাশাপাশি রয়েছে আবৃত্তি পরিবেশনাও। প্রায় ২০০ জন শিল্পী, শিক্ষার্থী ও শিক্ষক এতে অংশ নিয়েছেন।
এবারের বর্ষবরণের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির’। বিগত বছরের প্রতিকূলতা ও ‘আবর্জনা’ ঝেড়ে ফেলে আরও মানবমুখী সমাজ গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন আয়োজকেরা।
১৯৬৭ সাল থেকে ছায়ানট রমনার বটমূলে এই আয়োজন করে আসছে। সময়ের সঙ্গে এটি দেশের সর্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে, যেখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষ অংশ নেয়।
ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রতীক হয়ে উঠা এই আয়োজন নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়ার পাশাপাশি বাঙালির সাংস্কৃতিক পরিচয়কে আরও একবার দৃঢ়ভাবে তুলে ধরেছে।
মন্তব্য করুন