
নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। কৃষি পুনর্বাসন সহায়তা খাত থেকে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার মূল লক্ষ্য খরিপ-১ মৌসুমে বিভিন্ন ফসলের আবাদ বৃদ্ধি ও উৎপাদন নিশ্চিত করা।
উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এই কর্মসূচির আওতায় উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের মোট ২১০০ জন কৃষক উফশী আউশ ধান চাষের জন্য সহায়তা পাচ্ছেন। প্রতিটি কৃষক এক বিঘা জমিতে চাষের জন্য ৫ কেজি উন্নতমানের বীজ, ১০ কেজি ডিএপি সার এবং ১০ কেজি এমওপি সার পাচ্ছেন।
এছাড়া, গ্রীষ্মকালীন মুগ ডালের উৎপাদন বাড়াতে ২০ জন কৃষককে ৫ কেজি বীজ, ১০ কেজি ডিএপি এবং ৫ কেজি এমওপি সার প্রদান করা হচ্ছে। তিল চাষের জন্য ৩০ জন কৃষককে প্রতিজন ১ কেজি বীজ, ১০ কেজি ডিএপি ও ৫ কেজি এমওপি সার দেওয়া হচ্ছে। একইভাবে পাট চাষে উৎসাহ দিতে ৫০ জন কৃষককে ১ কেজি বীজ, ৫ কেজি ডিএপি এবং ৫ কেজি এমওপি সার দেওয়া হচ্ছে।
প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রসারে ৬ জন কৃষককে একটি করে এয়ার ফ্লো মেশিনও প্রদান করা হয়েছে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন নওগাঁ-৬ আসনের সংসদ সদস্য এস এম মো: রেজাউল ইসলাম রেজু। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: রাকিবুল হাসান। স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছা: মোস্তাকিমা খাতুন চৈতি।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাবিলা ইয়াসমিন, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, কৃষি বিভাগের প্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। অনুষ্ঠানের শেষে উপজেলা কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে প্রধান অতিথিকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, দেশের জনসংখ্যা দ্রুত বাড়ছে, অথচ আবাদযোগ্য জমি ক্রমেই কমে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে সরকারের দেওয়া উন্নতমানের বীজ ও কৃষি উপকরণ সঠিকভাবে ব্যবহার করার কোনো বিকল্প নেই।
তিনি আরও বলেন, যাদের প্রকৃতপক্ষে কৃষিকাজের প্রয়োজন নেই, তাদের প্রণোদনার উপকরণ গ্রহণ না করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে প্রকৃত কৃষকদের হাতে সহায়তা পৌঁছে দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেন।
মন্তব্য করুন