
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার রানীগঞ্জ বাজারে অবস্থিত নওরিন ফিলিং স্টেশনে টানা এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে পেট্রোল ও ডিজেল সরবরাহ বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও যানবাহন চালকরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার অন্যান্য ফিলিং স্টেশনগুলোতে স্বাভাবিকভাবে পেট্রোল সরবরাহ অব্যাহত থাকলেও রহস্যজনক কারণে শুধুমাত্র নওরিন ফিলিং স্টেশনেই এই সংকট দেখা দিয়েছে। এপ্রিলের শুরু থেকে বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) পর্যন্ত এই স্টেশনে কোনো ধরনের জ্বালানি সরবরাহ করা হয়নি।
এই পরিস্থিতিতে রানীগঞ্জসহ আশপাশের এলাকার শত শত মোটরসাইকেল চালক, ডিজেলচালিত গাড়ির মালিক ও ক্ষুদ্র যানবাহন ব্যবহারকারীরা বিপাকে পড়েছেন। অনেককে বাধ্য হয়ে দূরের ফিলিং স্টেশন থেকে অতিরিক্ত সময় ও খরচ করে তেল সংগ্রহ করতে হচ্ছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এটি কোনো স্বাভাবিক সংকট নয়, বরং পাম্প মালিকের পরিকল্পিত ‘তেল নিয়ে ভেলকিবাজি’। তাদের দাবি, কৃত্রিমভাবে সংকট তৈরি করে সাধারণ মানুষকে হয়রানির মধ্যে ফেলা হচ্ছে।
পেট্রোল সরবরাহ বন্ধের কারণ জানতে চাইলে ফিলিং স্টেশনের মালিক মুঠোফোনে জানান, “ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে তেল বিতরণের সময় কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে তাই পেট্্রল সরবাহ বন্ধ করে রেখেছে। বর্তমানে নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে আমরা রানীগঞ্জ পাম্পে তেল সরবরাহ বন্ধ রেখেছি।” তবে মালিকের এমন বক্তব্যকে ‘হাস্যকর’ ও ‘অযৌক্তিক অজুহাত’ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।
তাদের প্রশ্ন, যদি সত্যিই নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকে, তবে ঘোড়াঘাটের অন্যান্য পাম্পে কেন তা প্রভাব ফেলছে না? এছাড়া, বিষয়টি প্রশাসনকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি কেন? এ নিয়েও উঠেছে নানা প্রশ্ন।
স্থানীয়দের মতে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সবসময় নিরাপত্তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে। তাই নিরাপত্তার অজুহাতে পেট্রোল সরবরাহ বন্ধ রেখে জনভোগান্তি সৃষ্টি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ, প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান এবং কোনো ধরনের কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে স্থানীয় প্রশাসন ও জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ঘোড়ঘাট উপজেলার এলাকাবাসী সচেতন মহল।
মন্তব্য করুন