
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে স্থগিত থাকা শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) এবং শূন্য হওয়া বগুড়া-৬ আসনে আজ ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সকাল থেকেই ভোটারদের উপস্থিতি স্বাভাবিক এবং নির্বাচন শান্তিপূর্ণ রাখতে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত চলবে। শুরু থেকেই ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের উপস্থিতি সন্তোষজনক এবং পরিবেশ শান্ত রয়েছে।
শেরপুর-৩ আসনে তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন- বিএনপি প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল, জামায়াত প্রার্থী মাসুদুর রহমান মাসুদ এবং বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী) মনোনীত প্রার্থী মিজানুর রহমান।
জেলা নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, শেরপুর-৩ আসনে একটি পৌরসভা ও ১৭টি ইউনিয়ন রয়েছে। মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ১৩ হাজার ৩৭৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৫ হাজার ৬৬ জন, নারী ২ লাখ ৮ হাজার ৩০৪ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৭ জন।
এ আসনে মোট ১২৮টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২৭টি অধিক গুরুত্বপূর্ণ, ৩২টি গুরুত্বপূর্ণ এবং ৬৯টি সাধারণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। মোট ভোটকক্ষ রয়েছে ৭৫১টি।
শেরপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ১৪ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, নির্বাচন কমিশনের ১৮ জন পর্যবেক্ষক, ২ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং নির্বাচনী অনুসন্ধান (ইনকোয়ারি) কমিটির ৩ জন যুগ্ম জেলা জজ দায়িত্ব পালন করছেন।
নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেনাবাহিনীর ৮টি মোবাইল টিমে ২০০-এর বেশি সদস্য, ১৬ প্লাটুন বিজিবি, র্যাবের ১৪টি টিম এবং পুলিশের প্রায় ১১৫০ সদস্য মাঠে কাজ করছেন।
উল্লেখ্য, জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের মৃত্যুজনিত কারণে গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন স্থগিত করা হয়। পরবর্তীতে ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আজ ৯ এপ্রিল এ আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
১৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এ আসনের ১২৮টি ভোটকেন্দ্রে ৭৫১টি ভোটকক্ষে ৪ লাখ ১৩ হাজার ৩৭৭ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।
জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মিজানুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, নির্বাচন শান্তিপূর্ণ করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া রয়েছে । পুরো জেলায় ৩২টি মোবাইল টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্স কাজ করছে। প্রতিটি কেন্দ্রে ৫ জন এবং গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ৬ জন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করছে। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলার সুযোগ নেই উল্লেখ করে তিনি ভোটারদের শান্তিপূর্ণভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানান।
অপরদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছেড়ে দেয়া বগুড়া-৬ আসনে উপ-নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী রেজাউল করিম বাদশা, জামায়াতের আবিদুর রহমান সোহেল এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির আল আমিন তালুকদার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
বগুড়া জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপনির্বাচনে দুজন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও ২০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া ভোটগ্রহণে নিয়োজিত রয়েছেন ২ হাজার ৬৫৫ জন কর্মকর্তা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মোতায়েন করা হয়েছে ১ হাজার ৩৮২ জন পুলিশ সদস্য, প্রায় ২ হাজার আনসার সদস্য, ৮ প্লাটুন বিজিবি, ১০ প্লাটুন র্যাব, সেনাবাহিনী এবং ডগ স্কোয়াড।
মোট ১৫১টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৫৩টিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫টি কেন্দ্রকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
বগুড়া-৬ সদর আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৫০ হাজার ৩০৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ১৯ হাজার ৯২৩ জন, নারী ২ লাখ ৩০ হাজার ৩৭৪ জন এবং হিজড়া ভোটার ১০ জন। পৌরসভার ২১টি ওয়ার্ড ও সদর উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এ আসনে মোট কেন্দ্র ১৫০টি এবং বুথের সংখ্যা ৮৩৫টি। এর মধ্যে ৭৮৭টি স্থায়ী এবং ৪৮টি অস্থায়ী বুথ।
রিটার্নিং কর্মকর্তা ফজলুল করিম জানান, ভোটের আগে, ভোটের দিন এবং পরবর্তী সময়ে বিজিবি সদস্যরা টহলসহ নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগসহ অন্যান্য নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রতিটি কেন্দ্রে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলার সুযোগ নেই। ভোটারদের শান্তিপূর্ণভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন