
সারাদেশের মতো কুমিল্লাতেও জ্বালানি তেলের সংকট জনভোগান্তিকে চরমে পৌঁছে দিয়েছে। অকটেন ও পেট্রোল সংগ্রহ করতে মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়িচালকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে।
জেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে দুপুরে লাইনে দাঁড়ানো গ্রাহকদের অনেক সময় রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে। চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা অপেক্ষার পর জ্বালানি পেয়ে কিছুটা স্বস্তি নিয়ে ফিরছেন তারা।
প্রতিদিনই শহরের বিভিন্ন পাম্পে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে বিকালের পর মোটরসাইকেলের পাশাপাশি প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাসের সংখ্যাও বাড়ছে। এতে ভোগান্তির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভও বাড়ছে।
সোমবার রাতে নগরীর টেলিকোনা এলাকায় নুরুল হুদা ফিলিং স্টেশন-এর সামনে প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ গাড়ির সারি দেখা যায়। সেখানে প্রায় চার ঘণ্টা অপেক্ষার পর মোটরসাইকেলপ্রতি মাত্র চার লিটার অকটেন দেওয়া হচ্ছিল।
লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা এনজিও কর্মী উজ্জ্বল হোসেন বলেন, পাঁচ ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করেও তেল নিতে হচ্ছে বাধ্য হয়ে, কারণ বাইক ছাড়া কর্মস্থলে যাওয়া সম্ভব নয়। একই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে ব্যবসায়ী আরজু বলেন, দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে অল্প তেল পাওয়ায় ব্যবসায় ক্ষতি হচ্ছে।
দীর্ঘ লাইনে শৃঙ্খলা বজায় রাখা নিয়েও তৈরি হচ্ছে নানা জটিলতা। কোথাও কোথাও লাইন ভাঙাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ও হাতাহাতির ঘটনাও ঘটছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি প্রশাসন ও পুলিশকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
একাধিকবার জ্বালানি নেওয়া ঠেকাতে গ্রাহকদের জন্য বিশেষ চিহ্ন ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগ রয়েছে, কিছু ব্যক্তি অবৈধভাবে তেল মজুদের উদ্দেশ্যে পাম্পে ভিড় করছেন।
নুরুল হুদা ফিলিং স্টেশনের ট্যাগ অফিসার শাহাদাত হোসেন জানান, প্রতিদিন বিকাল থেকে জ্বালানি নিতে আসা মানুষের ভিড় সামাল দিতে পুলিশ ও পাম্প কর্তৃপক্ষকে বেগ পেতে হচ্ছে। তিনি মনে করেন, জেলার সব ফিলিং স্টেশন একযোগে তেল বিক্রি শুরু করলে একেকটি পাম্পে এত দীর্ঘ লাইন তৈরি হতো না।
মন্তব্য করুন