
বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলায় নিজ বাড়িতে ঢুকে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের (রাকাব) অবসরপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা শাহনাজ বেগমকে (৭০) গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলার ময়দানহাট্টা ইউনিয়নের মহব্বত নন্দীপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মা ও ছেলে পরিচয়ে দুই ব্যক্তি বাড়িতে প্রবেশ করে শাহনাজ বেগমের সঙ্গে কথোপকথনে জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে তাঁরা তাঁর ঘরেই অবস্থান নেন। এ সময় বাড়িতে ছিলেন পুত্রবধূ সৈয়দা জিন্নাত আকতার ও তাঁর ছোট মেয়ে। শাহনাজ বেগমের একমাত্র ছেলে মাহমুদুল হাসান (সজীব) তখন পাশের দাড়িদহ বাজারে তাঁর ইলেকট্রনিকসের দোকানে ছিলেন।
পুত্রবধূ জিন্নাত আকতার জানান, সন্ধ্যার দিকে চল্লিশোর্ধ্ব এক নারী তাঁদের বাড়িতে এসে নিজেকে পূর্বপরিচিত হিসেবে পরিচয় দেন। কিছুক্ষণ পর তাঁর ছেলে পরিচয়ে ২৩-২৪ বছর বয়সী এক তরুণও সেখানে আসে। তাঁদের আপ্যায়ন করে শাহনাজ বেগমের ঘরে বসতে দেওয়া হয়। এ সময় জিন্নাত আকতার মাগরিবের নামাজ আদায় করতে নিজ ঘরে যান।
নামাজ শেষে হঠাৎ শাশুড়ির চিৎকার শুনে বাইরে বের হতে গেলে দেখেন দরজা বাইরে থেকে আটকানো। তিনি চিৎকার করে প্রতিবেশীদের ডাকেন। কিছুক্ষণ পর পাশের বাড়ির এক নারী এসে দরজা খুলে দেন। এরপর তাঁরা শাহনাজ বেগমের ঘরে গিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁর লাশ দেখতে পান। ওই সময় আগন্তুক নারী ও তরুণকে আর বাড়িতে দেখা যায়নি।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘরে থাকা টাকা, স্বর্ণালঙ্কারসহ কোনো মূল্যবান জিনিস খোয়া যায়নি। ফলে হত্যার কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। নিহতের ছেলে মাহমুদুল হাসান বলেন, তাঁদের কারও সঙ্গে কোনো বিরোধ বা শত্রুতা ছিল না।
শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনুজ্জামান বলেন, পুত্রবধূর বর্ণনা যাচাই করা হচ্ছে। আগন্তুক নারী ও তরুণকে শনাক্ত করা গেলে হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন সম্ভব হবে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন