
রাজধানীর পল্লবী থানার যুবদল নেতা গোলাম কিবরিয়া হত্যা মামলায় কিলিং মিশনে অংশ নেওয়া দুই শুটারকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি রিভলবার ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তাররা হলেন রাশেদ ওরফে লোপন এবং মো. জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে কাল্লু। শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকালে রাজধানীর মিরপুর-১ পাইকপাড়ায় র্যাব-৪ ব্যাটালিয়ন সদরদপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কোম্পানি কমান্ডার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাহাবুদ্দিন কবির এ তথ্য জানান।
তিনি জানান, গত ১৭ নভেম্বর সন্ধ্যায় পল্লবী থানার মিরপুর-১২ ব্লকের বিক্রমপুর স্যানিটারি অ্যান্ড হার্ডওয়্যার দোকানে ঢুকে দুর্বৃত্তরা পিস্তল দিয়ে বুকে ও পিঠে গুলি করে গোলাম কিবরিয়াকে (৫০) হত্যা করে। হামলার সময় পালানোর পথে সন্ত্রাসীরা স্থানীয় জনতার ওপর গুলি চালালে এক রিকশাচালক গুরুতর আহত হন। এ ঘটনায় ভিকটিমের পরিবার পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে, যা দেশজুড়ে আলোচনার সৃষ্টি করে।
র্যাব জানায়, ঘটনার পর সিসিটিভি ফুটেজ ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে জড়িতদের শনাক্তে ছায়া তদন্ত শুরু করা হয়। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, হামলায় অংশ নেওয়া শুটাররা দেশত্যাগের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) রাতে রাজধানীর রূপনগরের ইস্টার্ন হাউজিং এলাকা থেকে রাশেদ ও উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টরের দিয়াবাড়ি এলাকা থেকে জাহাঙ্গীরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, রাশেদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার বাসা থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি বিদেশি রিভলবার ও তিন রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা রাজনৈতিক কোন্দল ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।
র্যাব আরও জানায়, এটি একটি সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড এবং এতে বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেন হয়েছে। গ্রেপ্তার দুজনই পেশাদার শুটার; তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় হত্যা, চাঁদাবাজি ও মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে।
এর আগে, গত ১৮ নভেম্বর ২০২৫ এ মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মনির হোসেন ওরফে সোহেল ওরফে পাতা সোহেল (৩০) এবং সুজন ওরফে বুকপোড়া সুজনকে গ্রেপ্তার করেছিল র্যাব-৪।
গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
মন্তব্য করুন