
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাসডুবির মর্মান্তিক ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে কুষ্টিয়ার চারজন রয়েছেন। তবে এই দুর্ঘটনায় বাসের ভেতর থেকে কয়েকজন যাত্রী ‘অলৌকিকভাবে’ প্রাণে বেঁচে ফিরেছেন। তাদের একজন খাইরুল খাঁ, যিনি ভয়াবহ সেই মুহূর্তের বর্ণনা দিতে গিয়ে এখনও আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন।
বুধবার বিকেলে সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করে। শুরুতে ছয়জন যাত্রী নিয়ে রওনা দেওয়া বাসটি খোকসা কাউন্টার থেকে আরও আটজন যাত্রী তোলে। পরে পথে পথে আরও যাত্রী ওঠেন। বাসটিতে চালক, সহকারী ও সুপারভাইজারসহ মোট যাত্রীসংখ্যা বাড়তে থাকে।
দুর্ঘটনার পর বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতদের মধ্যে কুষ্টিয়ার চারজন হলেন মর্জিনা খাতুন (৫৬), রাজীব বিশ্বাস (২৮), ইস্রাফিল (৩) ও আয়েশা সিদ্দিকা (১৩)।
বেঁচে ফেরা যাত্রীদের মধ্যে খোকসা উপজেলার আমবাড়িয়া গ্রামের কুদ্দুস খাঁর ছেলে খাইরুল খাঁ, পেশায় একজন পোশাক শ্রমিক। তিনি জানান, বিকেল পৌনে ৩টার দিকে খোকসা কাউন্টার থেকে বাসে ওঠেন এবং বি-২ নম্বর আসনে বসেছিলেন। তার পাশের আসনে বসা এক যুবক কিছুক্ষণ পর নেমে গিয়ে আবার বাসে ওঠেন।
খাইরুলের ভাষ্য, ফেরিঘাটে পৌঁছানোর পর বাসটি পন্টুনের দিকে এগোচ্ছিল। ঠিক তখনই হঠাৎ একটি তীব্র ঝাঁকুনি লাগে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ে। ধাক্কার মধ্যে তিনি দরজার কাছে চলে যান এবং খোলা দরজা দিয়ে ছিটকে নদীতে পড়ে যান।
তিনি বলেন, কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই নিজেকে পানিতে ভাসতে দেখেন। আশপাশে আরও কয়েকজন যাত্রী ও ব্যাগ ভাসছিল। পরে সাঁতরে এবং ফেরি ও পন্টুনে থাকা লোকজনের সহায়তায় তারা পানি থেকে উঠে আসেন। একজন তাকে টেনে তুলে প্রাণে বাঁচান।
তবে তার পাশের আসনে বসা ওই যুবকের আর কোনো খোঁজ পাননি বলে জানান খাইরুল। তার মতে, বাসটির প্রায় প্রতিটি আসনেই যাত্রী ছিল, যাদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যা বেশি ছিল।
চালক ও সহকারীদের বিষয়ে খাইরুল বলেন, বাসটি চালাচ্ছিলেন মূল চালকই। সুপারভাইজার সিরিয়ালের জন্য ঘাটে নেমে ছিলেন এবং হেলপার পন্টুনে অবস্থান করছিলেন। এ কারণে তারা বেঁচে যান। চালক আরমানের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে বলে তিনি শুনেছেন।
এদিকে সৌহার্দ্য পরিবহনের খোকসা কাউন্টার মাস্টার রাকিব জানান, বি-১ ও বি-২ নম্বর আসনের যাত্রীদের মধ্যে খাইরুল বেঁচে ফিরেছেন। তার পাশের যাত্রী এখনও নিখোঁজ। তিনি আরও বলেন, বাসটি অন্য কেউ চালাচ্ছিল এমন দাবি সঠিক নয়; চালক আরমানই গাড়ি চালাচ্ছিলেন এবং তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি জানান, বাসটির মালিক রাজবাড়ীর হওয়ায় চালক, সহকারী ও সুপারভাইজার সবাই স্থানীয় ছিলেন।
মন্তব্য করুন