
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের প্রত্যুষে চট্টগ্রাম নগরীর উত্তর কাট্টলীস্থ মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন ভূমি মন্ত্রণালয় এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন এমপি।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ভোর ৬টা ২৫ মিনিটে মহান স্বাধীনতা দিবসের প্রথম প্রহরে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে আনুষ্ঠানিক প্রথম শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তিনি। এসময় তিনি শহীদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন এবং তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই মহান স্বাধীনতা দিবসে আমাদের মূল লক্ষ্য হলো শহীদদের স্বপ্নের সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার নিশ্চিত করা।
সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনাসমূহ বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে প্রশাসন ও সাধারণ মানুষকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, মহান স্বাধীনতার এই দিনে আমাদের অঙ্গীকার হোক, দেশপ্রেমের শক্তিতে বলীয়ান হয়ে একটি শোষণমুক্ত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা। ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দীন এমপি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার ঘোষিত রাষ্ট্র সংস্কারের আধুনিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের নতুন এক রূপরেখা আপনাদের সামনে উপহার হিসেবে দিয়েছেন। সরকারের মেনিফেস্টোর মূল ভিত্তি হলো জনকল্যাণ এবং ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ।
এই নতুন রূপরেখা বাস্তবায়নে এবং দেশের প্রকৃত গণতান্ত্রিক কাঠামো পুনর্গঠনে প্রশাসনের কর্মকর্তা থেকে শুরু করে সাধারণ জনগণ-সকলকে অগ্রণী ভূমিকা রাখার উদাত্ত আহ্বান জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর ক্রমান্বয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন, সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. জিয়া উদ্দিন, জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা, সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজ এবং রেঞ্জ ডিআইজি আহসান হাবীব পলাশ।
বেলা বাড়ার সাথে সাথে স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণটি সর্বস্তরের মানুষের সংখ্যা বাড়তে থাকে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা উৎসবের আমেজ পায়। বিশেষ করে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানস্থলে এক অন্যরকম আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি করে। দিবসটি উপলক্ষে স্মৃতিসৌধ ও এর আশপাশের এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
পাশাপাশি পুরো এলাকায় বর্ণিল সাজে সাজানো হয়। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত ও দেশের সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।
মন্তব্য করুন