ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম-দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং নির্ধারিত সময়েও কাজ শেষ না হওয়ার প্রতিবাদে ১০ দফা দাবিতে প্রতিবাদ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলন, সুনামগঞ্জ জেলা কমিটি।

ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম-দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং নির্ধারিত সময়েও কাজ শেষ না হওয়ার প্রতিবাদে ১০ দফা দাবিতে প্রতিবাদ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলন, সুনামগঞ্জ জেলা কমিটি।
শনিবার (১৪ মার্চ) সুনামগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার ট্রাফিক পয়েন্ট সংলগ্ন এলাকায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের সভাপতি মো. রাজু আহমেদের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মো. ওবায়দুল হক মিলনের সঞ্চালনায় কর্মসূচিতে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও স্থানীয়রা অংশ নেন।
কর্মসূচিতে সংগঠনের সহসভাপতি শাহ কামাল মাঠপর্যায়ের ১১টি পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। একই সঙ্গে সংগঠনের সভাপতি মো. রাজু আহমেদ ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে স্বচ্ছতা নিশ্চিতসহ ১০ দফা দাবি উত্থাপন করেন।
পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ফসল রক্ষা বাঁধের সার্ভে ও প্রাক্কলন কার্যক্রম দৃশ্যমান ছিল না, ফলে অপ্রয়োজনীয়ভাবে পিআইসি (প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি) সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। পিআইসি গঠনে মাঠ প্রশাসনের গণশুনানি কার্যক্রম সন্তোষজনক ছিল না বলে অনেক প্রকৃত কৃষক এতে যুক্ত হতে পারেননি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত ১৫ ডিসেম্বর জেলার ১২টি উপজেলায় প্রতীকীভাবে একটি করে বাঁধের কাজ উদ্বোধন করা হলেও বর্ধিত সময় দেওয়ার পরও অধিকাংশ এলাকায় বাঁধের কাজ যথাযথভাবে শেষ হয়নি। পাশাপাশি কাজের অগ্রগতি নিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার সঙ্গে মিল নেই বলেও দাবি করা হয়।
পর্যবেক্ষণে আরও অভিযোগ করা হয়, অনেক পিআইসি অক্ষত থাকা সত্ত্বেও অতিরিক্ত বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় ও লুটপাটের শামিল। বিভিন্ন ক্লোজার ও বাঁধ নির্মাণে বালু ও কাঁদাযুক্ত মাটি ব্যবহার, পুরোনো বাঁধের মাটি পুনরায় ব্যবহার এবং কাজের মান নিয়ে নানা অনিয়মের কথাও তুলে ধরা হয়। এছাড়া জেলার প্রায় ১১০টি গুরুত্বপূর্ণ ক্লোজারের কাজ সন্তোষজনকভাবে শেষ হয়নি বলেও দাবি করা হয়।
সংগঠনটির ১০ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—সময়ের মধ্যে বাঁধ নির্মাণ কার্যক্রমের সার্ভে ও প্রাক্কলন সম্পন্ন করা, পিআইসি গঠনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, অপ্রয়োজনীয় পিআইসি গঠন বন্ধ করা, অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়া, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিচারবিভাগীয় তদন্ত করা এবং হাওরের ফসলি জমি কাটার মাধ্যমে মাটি লুট বন্ধ করা।
এছাড়া জেলার হাওর এলাকায় পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখতে পর্যাপ্ত সুইচ গেট স্থাপন, খাল ও নদী খনন এবং প্রয়োজনীয় স্থানে রাবার ড্যাম নির্মাণের দাবিও জানানো হয়।
প্রতিবাদ কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের নেতারা স্বেচ্ছায় এই কার্যক্রমে যুক্ত হয়েছেন এবং ভবিষ্যতেও হাওর রক্ষায় কাজ করে যাবেন। তারা বলেন, সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের উন্নয়নমূলক কাজে বরাদ্দকৃত রাষ্ট্রীয় অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে এবং অনিয়ম-দুর্নীতি প্রতিরোধে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন সংগঠনের উপদেষ্টা চিত্ত রঞ্জন তালুকদার, সৈয়দ মহিবুল ইসলাম, ইকবাল কাগজী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব জাহাঙ্গীর আলম, জেলা সহসভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম মজনু, ওবায়দুল মুন্সী, অ্যাডভোকেট দীপঙ্কর বনিক, সুহেল আলম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাইনুদ্দিন, আকিক মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল বাছির, ইমরান হোসেন ও বাঁধ বিষয়ক সম্পাদক মহসিন আলমসহ বিভিন্ন উপজেলার নেতারা।
মন্তব্য করুন