কবরের ওপর এখনো তাজা মাটির স্তূপ। সেই মাটিকে ঘিরে দাঁড়িয়ে আছে শোকাহত মানুষের ভিড়। শুক্রবার মোংলার মাটিতে যে কান্না আর আহাজারি ছড়িয়ে পড়েছিল, শনিবারও তার রেশ কাটেনি। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসছেন এই হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখতে। যেন নিজের চোখে না দেখলে বিশ্বাসই হচ্ছে না—একটি পরিবারের একাধিক প্রজন্ম এখন পাশাপাশি চিরনিদ্রায় শায়িত।
শনিবারও মোংলা পৌর কবরস্থানের পরিবেশ ভারী ও থমথমে। গ্রাম-শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ আসছেন কবরগুলো দেখতে। কেউ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকছেন, কেউবা দীর্ঘশ্বাস ফেলছেন। আগতরা আঙুল তুলে দেখিয়ে দিচ্ছেন—‘এই কবরটি পরিবারের কর্তা আব্দুর রাজ্জাকের, আর ঠিক পাশেই শুয়ে আছে তার প্রিয় দুই নাতি।’
প্রিয়জন হারানোর বেদনায় স্বজনরা যেন বাকরুদ্ধ। কবরস্থানে পাশাপাশি থাকা নয়টি কবরের সারি দেখলেই বুকের ভেতর কেমন একটা ভারী নীরবতা নেমে আসে। জীবদ্দশায় দাদা-নাতিরা যে স্নেহের বন্ধনে আবদ্ধ ছিলেন, মৃত্যুতেও যেন তারা সেই বন্ধন অটুট রেখেছেন—শেষ ঠিকানাতেও তারা পাশাপাশি।
কবরস্থানের এই সারি সারি কবর যেন একটি পরিবারের স্বপ্নভঙ্গের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। কবর দেখতে আসা মানুষের ভিড় আর তাদের নিঃশব্দ বিলাপ জানান দিচ্ছে—বিয়ের আনন্দঘন আয়োজন কী নির্মমভাবে এক মর্মান্তিক পরিণতিতে রূপ নিয়েছে। বিস্তৃত আকাশের নিচে মোংলা পৌর কবরস্থান আজ গভীর শোকের নীরব সাক্ষী।