
হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলায় ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় এক এনজিও কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
র্যাব-৯, সিপিসি-৩, শায়েস্তাগঞ্জ ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট মো. সাজ্জাদ হোসেন জানান, চুনারুঘাট এলাকায় ঝটিকা অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তি নুরুল ইসলাম ওরফে নুরুল হক (৫৫)। তিনি বাহুবল উপজেলার মিরপুর ইউনিয়নের লাকুড়ীপাড়া গ্রামের আলী হোসেনের ছেলে এবং ‘দরিদ্র কল্যাণ সংস্থা’ নামের একটি এনজিওর নির্বাহী পরিচালক।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি এক তরুণী নুরুল হক, তার সহযোগী ওসমানীনগরের আবুল বশর ওরফে মামুন বখতসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রায় এক বছর আগে ওই তরুণী চুনারুঘাট উপজেলার দরিদ্র কল্যাণ সংস্থায় অফিস সহকারী হিসেবে চাকরি নেন। চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই নুরুল হক তাকে বিভিন্নভাবে কুপ্রস্তাব দিতে থাকেন। একপর্যায়ে তাকে ধর্ষণ করা হয় এবং সেই ঘটনার ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর দাবি, তাকে ওষুধ খাইয়ে অচেতন করে নুরুল হক তার কয়েকজন বন্ধু ও প্রবাসীর কাছেও পাঠাতেন। পরে তিনি চাকরি ছেড়ে দিলে আপত্তিকর ভিডিও বিদেশে থাকা কয়েকজনের কাছে পাঠানো হয়, যা পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, চুনারুঘাট ও বাহুবল উপজেলার আরও দুই তরুণী একইভাবে ধর্ষণ ও শ্লীলতাহানির শিকার হয়েছেন।
এর আগে ১৫ ফেব্রুয়ারি এক শিক্ষার্থী হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে নুরুল হকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেন।
র্যাব কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট মো. সাজ্জাদ হোসেন জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, নুরুল হক মানবাধিকার সংস্থা ও এনজিওর আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে অসহায় নারীদের জিম্মি করে অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও ব্ল্যাকমেইল করে আসছিলেন।
বাহুবল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, মামলাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। পলাতক অবস্থায় র্যাবের সহায়তায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে পাঠানো হবে।
মন্তব্য করুন