
একসময় পণ্যবাহী নৌযানের চলাচলে মুখর ছিল মোংলা পোর্ট পৌরসভার প্রাণকেন্দ্র ঠাকুরানী খাল। শহরের গুরুত্বপূর্ণ পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার অংশ হিসেবে পরিচিত এই খাল এখন দখল ও দূষণের চাপে প্রায় অস্তিত্ব সংকটে। কোথাও খালটি সরু ড্রেনে পরিণত হয়েছে, আবার কোথাও বহুতল ভবনসহ বিভিন্ন স্থাপনার নিচে চাপা পড়ে হারিয়ে ফেলেছে তার স্বাভাবিক প্রবাহ।
সরকারি নথি অনুযায়ী ঠাকুরানী খালের দৈর্ঘ্য প্রায় ২ দশমিক ১০ কিলোমিটার এবং প্রস্থ ৩০ থেকে ৪০ ফুট। কিন্তু বাস্তবে খালের বড় একটি অংশ জবরদখলের কারণে সংকুচিত হয়ে পড়েছে। অনেক স্থানে খালের চিহ্নও প্রায় বিলীন হয়ে গেছে।
ভূমি অফিসের নথিতে অন্তত ৩১ জন দখলদারের নাম উল্লেখ রয়েছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, প্রকৃত দখলদারের সংখ্যা এর চেয়েও বেশি। রাজনৈতিক প্রভাব ও বিভিন্ন তদবিরের কারণে অনেকেই তালিকার বাইরে থেকে খালের ওপর দোকানপাট ও স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
খাল দখলের ফলে মোংলা শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই শহরের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য দুর্ভোগ ডেকে আনছে।
মোংলা নাগরিক সমাজের সভাপতি নূর আলম শেখ বলেন, অতীতেও একাধিকবার খাল দখলমুক্ত করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে কার্যকর কোনো উদ্যোগ না থাকায় পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি। ফলে ধীরে ধীরে খালটি হারিয়ে যাওয়ার পথে।
তবে এবার কিছুটা আশাবাদী স্থানীয়রা। খাল খনন ও উদ্ধারের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি মোংলার মানুষের মধ্যে নতুন প্রত্যাশা সৃষ্টি করেছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শারমিন আক্তার সুমী জানান, খালের নথিপত্র যাচাই এবং সীমানা নির্ধারণের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলামও বলেছেন, জলাধার রক্ষায় কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তিকেও ছাড় দেওয়া হবে না।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, খাল উদ্ধারের উদ্যোগ যেন কেবল ঘোষণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থাকে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে দীর্ঘদিনের দখলমুক্ত করে ঠাকুরানী খালের হারানো প্রাণ ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন তারা। এখন দেখার বিষয়—এবার সত্যিই কি মুক্তি পাবে ঠাকুরানী খাল, নাকি আগের মতো এই আশ্বাসও কেবল প্রতিশ্রুতিতেই সীমাবদ্ধ থাকবে।
মন্তব্য করুন