
খুলনার পাইকগাছা উপজেলায় জ্বালানি তেল ও এলপিজি গ্যাসে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বাড়তি দামে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাকে অজুহাত দেখিয়ে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছে, যার কারণে পৌর সদর ও বিভিন্ন ইউনিয়নের সাধারণ ক্রেতারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, খুচরা তেল বিক্রেতারা সরবরাহ কম থাকার অজুহাত দেখিয়ে গ্রাহকদের এক থেকে দুই লিটার তেল বিক্রি করছেন। তবে সেই তেল প্রতি লিটারে ৪–৫ টাকা বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। পৌর সদরের নাজমুল হুদা বলেন, "দোকানিরা সরবরাহ কম থাকার কথা বলছে, কিন্তু বাস্তবে মনে হচ্ছে তারা ইচ্ছাকৃতভাবে দাম বাড়াচ্ছে।"
কৃষক সাইফুল ইসলাম বলেন, "সেচ মেশিন চালাতে ডিজেল দরকার, কিন্তু তেল কম পাওয়া যাচ্ছে এবং যে তেল আছে তা আগের দামের চেয়ে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। এতে আমাদের খরচ বেড়ে গেছে।"
এলপিজি গ্যাসের ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। অনেক ব্যবসায়ী দোকানে গ্যাস নেই বলে জানালেও পরিচিত বা নির্দিষ্ট ক্রেতাদের কাছে বাড়তি দামে বিক্রি করছেন। স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, প্রতি সিলিন্ডারে ৫০–১০০ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয়রা আরও জানান, পাইকগাছায় একটি অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়ে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছে, বাজারে অস্থিরতা তৈরি করছে এবং অতিরিক্ত মুনাফা অর্জন করছে।
তবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে মার্চ ২০২৬ মাসের জন্য তেলের খুচরা মূল্য অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। এতে ডিজেল লিটার প্রতি ১০০ টাকা, অকটেন ১২০ টাকা, পেট্রোল ১১৬ টাকা ও কেরোসিন ১১২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সরকারি নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও পাইকগাছায় কিছু ব্যবসায়ী তা উপেক্ষা করে বাড়তি দামে তেল ও গ্যাস বিক্রি করছেন। স্থানীয় সচেতন মহল বলেন, প্রশাসনের নজরদারি দুর্বল হওয়ায় অসাধু ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিচ্ছে। তারা দ্রুত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে বাজার তদারকি জোরদার করার ও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অতিরিক্ত দামে জ্বালানি বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন