
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার চিংড়াখালী ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসনিক কর্মকর্তার স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদ করায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন পরিষদের ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তার বিরুদ্ধে। নিরাপত্তাহীনতার কারণে প্রশাসনিক কর্মকর্তা পরিষদে অফিস করা বন্ধ করে দেওয়ায় নাগরিক সেবা ব্যাহত হচ্ছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, চিংড়াখালী ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা কে এম জুলফিকার আলী হায়দার (জুয়েল) দাবি করেন, ইউনিয়ন পরিষদের ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা স্থানীয় পাথুরিয়া গ্রামের মোসলেম উদ্দিন হাওলাদারের ছেলে তৌহিদুল ইসলাম বাবু দায়িত্ব পালনকালে পরিষদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথিতে তার স্বাক্ষর জাল করেছেন। বিষয়টি জানাজানি হলে তিনি প্রতিবাদ জানান।
এতে ক্ষিপ্ত হয়ে উদ্যোক্তা তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় গত ৩ মার্চ তিনি তৌহিদুল ইসলাম বাবুর বিরুদ্ধে মোরেলগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।
অভিযোগে প্রশাসনিক কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, স্বাক্ষর জালিয়াতি এবং জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন পোর্টালের পাসওয়ার্ড সংক্রান্ত বিষয়ে জানতে চাইলে উদ্যোক্তা ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে প্রকাশ্যে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন এবং মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখান। এ ঘটনার পর থেকে নিরাপত্তাহীনতার কারণে তিনি গত ২ মার্চ থেকে ইউনিয়ন পরিষদে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন।
এদিকে উদ্যোক্তা ও প্রশাসনিক কর্মকর্তার বিরোধের কারণে পরিষদ সংশ্লিষ্ট নাগরিক সেবার কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। ফলে ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন। প্রয়োজনীয় সেবা নিতে অনেককে ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে রামচন্দ্রপুর ইউনিয়ন পরিষদে যেতে হচ্ছে।
দক্ষিণ চিংড়াখালী গ্রামের বাসিন্দা মো. আবুল সিকদার বলেন, “তিন দিন ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে সচিবকে পাইনি। পরে শুনেছি উদ্যোক্তার সঙ্গে ঝামেলার কারণে তিনি আসছেন না। শেষ পর্যন্ত সাত কিলোমিটার দূরের রামচন্দ্রপুর ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে কাগজে স্বাক্ষর নিতে হয়েছে। আমরা এ ভোগান্তির দ্রুত অবসান চাই।”
চিংড়াখালী ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আরিফুল ইসলাম বলেন, চেয়ারম্যান না থাকায় একজন কর্মকর্তা প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছেন। তাকে সব সময় পাওয়া যায় না। ইউনিয়ন সচিবের মাধ্যমে অনেক কাজ চলছিল। হঠাৎ এ ধরনের ঘটনার কারণে সাধারণ মানুষ সমস্যায় পড়েছেন। তিনি দ্রুত বিষয়টির সমাধানের দাবি জানান।
ভুক্তভোগী প্রশাসনিক কর্মকর্তা কে এম জুলফিকার আলী হায়দার (জুয়েল) জানান, তিনি ২০২৫ সালের ২১ অক্টোবর রামচন্দ্রপুর ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন। অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে সপ্তাহে সোম ও বুধবার চিংড়াখালী ইউনিয়ন পরিষদে দায়িত্ব পালন করতেন। তিনি বলেন, “আমার স্বাক্ষর জাল করার বিষয়ে জানতে চাইলে উদ্যোক্তা আমাকে প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দেন। নিরাপত্তাহীনতার কারণেই পরিষদে যাওয়া বন্ধ করেছি। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে জানিয়েছি এবং থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছি। আমি প্রশাসনের কাছে ন্যায়বিচার চাই।”
মোরেলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মাহামুদুর রহমান জানান, ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তার করা সাধারণ ডায়েরিটি আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালত থেকে নির্দেশনা এলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) অতীশ সরকার বলেন, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে উদ্যোক্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং তার কাছ থেকে লিখিত জবাব চাওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “নাগরিক সেবা কোনোভাবেই বন্ধ থাকবে না। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ছুটিতে রয়েছেন, তিনি ফিরে এলে বিষয়টি দ্রুত সমাধান করা হবে।”
তবে চিংড়াখালী ইউনিয়ন পরিষদের ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা তৌহিদুল ইসলাম বাবু তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “সচিবের অনিয়মের প্রতিবাদ করায় আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক অভিযোগ করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন