
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম বলেছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এনসিপি অংশগ্রহণ করবে এবং এ লক্ষ্যে নেতাকর্মীদের এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে। দুর্নীতি ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে তাদের যে লড়াই, তা এখনো শেষ হয়নি।
সোমবার (২ মার্চ) সন্ধ্যায় নগরীর দ্য কিং অব চিটাগাং-এ এনসিপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, জুলাই সনদ এবং গণভোটের গণরায়—যার ভিত্তিতে নির্বাচন হয়েছে এবং সরকার গঠিত হয়েছে—সেই গণরায়কে বাতিল করার জন্য আদালতকে ব্যবহার করার চেষ্টা চলছে। আদালতকে আবারও দলীয়করণের অপচেষ্টা করা হচ্ছে কি না, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, আদালতকে যদি নিজেদের দলীয় ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয় বা করার চেষ্টা করা হয়, তাহলে তার পরিণতি খুবই করুণ হবে। অতীতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ একই ধরনের প্রচেষ্টার মাধ্যমে নিজেদের পতনের সূচনা করেছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সরকারের উদ্দেশে নাহিদ ইসলাম বলেন, গণভোটের গণরায় দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। এ রায়ের ভিত্তিতেই নতুন বাংলাদেশ ও নতুন সংসদের যাত্রা শুরু হয়েছে।
'এটি শুধু কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ওপর নির্ভর করলে চলবে না। নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী ঢাকা থেকে নেতৃত্ব দিলেই হবে না; দখলদারি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম থেকেই কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।'
তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজ ও দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। জনগণের পাশে দাঁড়াতে হবে, ছোট ও মধ্যবিত্ত ব্যবসায়ী এবং শ্রমজীবী মানুষের পাশে থাকতে হবে- যাতে চট্টগ্রামে কোনো চাঁদাবাজি বা সন্ত্রাস টিকে থাকতে না পারে।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, চট্টগ্রামে ফ্যাসিস্টদের আস্ফালন এখনো কমেনি। এনসিপি ও পতিত আওয়ামী লীগ একসাথে থাকতে পারে না। যে জেলায় আওয়ামী লীগের কার্যক্রম শুরু হবে, সেখানে হয়তো আওয়ামী লীগ থাকবে, নয়তো এনসিপি থাকবে। এনসিপির যদি ১০ জন নেতাকর্মীও থাকে, সেই অঞ্চলে আওয়ামী লীগের কোনো কার্যক্রম বা নিষিদ্ধ ফ্যাসিস্ট সংগঠনের কোনো অফিস যেন কোনোভাবেই সুযোগ না পায়, সেটি নিশ্চিত করার দায়িত্ব নেতাকর্মীদের ওপর বর্তায়।
তিনি বলেন, আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে তাদের সংগ্রাম কেবল ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে নয়। বাংলাদেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে যে কোনো পরাশক্তির বিরুদ্ধেই তাদের লড়াই-সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দলের সদস সচিব আখতার হোসেন এমপি, দক্ষিণাঞ্চলের মূখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ এমপি, দলের মূখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী।
মন্তব্য করুন