
যশোরে এক অদ্ভুত ঘটনায় একে অপরের সাথে প্রতারণা করতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত এক নারীসহ তিনজন আটক হয়েছেন। আটক ওই নারী কাঁচের বস্তু ডায়মন্ড দাবি করে বিক্রির চেষ্টা করেন, আর দুই ব্যক্তি কাগজের বান্ডিলকে টাকা হিসেবে উপস্থাপন করে তা কিনতে যান। শেষ পর্যন্ত প্রতারণার এই পাল্টাপাল্টি চেষ্টায় দু’পক্ষই ধরা পড়েছেন।
বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে যশোর শহরতলীর ঝুমঝুমপুর প্রাইমারি স্কুল মোড়ে এ ঘটনা ঘটে।
আটক ব্যক্তিরা হলেন—ঝুমঝুমপুর এলাকার জাহাঙ্গীর হোসেনের স্ত্রী মিতু আক্তার মৌসুমী ওরফে মনি (২৫), শেখহাটি এলাকার মৃত আব্দুল মান্নান শেখের ছেলে তামিম আহমেদ বিল্লাল (৩৮) এবং ঝুমঝুমপুর মসজিদ রোডের মৃত ইউসুফ আলীর ছেলে মাসুদ রানা (৩৭)।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ঝুমঝুমপুর এলাকার রিকশাচালক রাকিব হোসেন (২৫) বুধবার রাতে স্কুল মোড়ে অবস্থান করছিলেন। এ সময় তিনি দেখেন, এক নারী ‘ছিনতাই’ বলে চিৎকার করছেন এবং তার পেছনে দুই যুবক দৌড়ে যাচ্ছেন। সন্দেহ হলে রাকিব এগিয়ে গিয়ে একজনকে আটক করেন। পরে স্থানীয়রা এসে ওই নারী ও অপর যুবককেও ধরে ফেলেন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, মিতু আক্তার মৌসুমী ওরফে মনি একটি কাঠের বাক্সে কাঁচের বস্তু সাজিয়ে সেটিকে ডায়মন্ড হিসেবে বিক্রি করতে চেয়েছিলেন। অন্যদিকে তামিম আহমেদ বিল্লাল ও মাসুদ রানা কাগজের বান্ডিলকে ভুয়া টাকা বানিয়ে এক লাখ টাকার বিনিময়ে সেটি কেনার চেষ্টা করেন। অর্থাৎ, উভয়পক্ষই একে অপরকে প্রতারণার উদ্দেশ্যে সেখানে গিয়েছিলেন। ঘটনার পর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করা হলে রাত সাড়ে ১০টার দিকে চানপাড়া পুলিশ ক্যাম্পের উপ-পরিদর্শক সিরাজুল ইসলাম ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তিনি নিশ্চিত হন, উভয়পক্ষই প্রতারণার সঙ্গে জড়িত।
পুলিশ জানায়, মিতু আক্তার মৌসুমী ওরফে মনির কাছ থেকে ভুয়া টাকার কাগজের বান্ডিল এবং তামিম আহমেদ বিল্লাল ও মাসুদ রানার কাছ থেকে একটি কাঠের বাক্স উদ্ধার করা হয়। বাক্সের ভেতরে থাকা কথিত ডায়মন্ড পরীক্ষা করে কাঁচ বলে শনাক্ত করা হয়েছে।
এ ঘটনায় তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে কোতোয়ালি থানা পুলিশ তাদের আদালতে সোপর্দ করেছে।
মন্তব্য করুন