
পটুয়াখালী ৪ (কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এ বি এম মোশাররফ হোসেন মঙ্গলবার এমপি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ের পর তিনি নতুন এমপি অন্তর্ভুক্ত হলেন। দায়িত্ব পেয়েছেন মন্ত্রণালয়ের। এতে তাঁর নির্বাচনী এলাকায় দলীয় নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ ব্যাপক উচ্ছ্বসিত। রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবন-এ শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নেন।
এবিএম মোশাররফ হোসেন দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতিতে সক্রিয় এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র কেন্দ্রীয় কমিটির প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। উপকূলীয় অঞ্চলের উন্নয়ন, দুর্যোগ প্রস্তুতি ও সামাজিক কার্যক্রমে তাঁর ভূমিকা রয়েছে, যা দীর্ঘদিন ধরে সমর্থকদের মধ্যে সুনাম সৃষ্টি করেছে।
২০২৬ সালের ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্ধিতা করে এ বি এম মোশাররফ হোসেন এক লাখ ২৪ হাজার ১৩ ভোট পেয়ে জয়ী হন। ওই নির্বাচনী এলাকার বাসিন্দারা বলছেন, এই বিজয় পটুয়াখালী ৪ (কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী) অঞ্চলে বিএনপির পুনরুত্থানের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত।
এ বি এম মোশাররফ হোসেনের রাজনৈতিক জীবন শুরু ছাত্ররাজনীতি দিয়ে। তিনি ঢাকা বিশ^ বিদ্যালয় কবি জসিম উদ্দিন হলের ছাত্র সংসদ সমাজ সেবা সম্পাদক নির্বাচিত (১৯৮৯-৯০) হন এবং ছাত্রনেতা হিসেবে ’৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। কয়েকবার ঢাকা বিশ^ বিদ্যালয় সিনেটঁ সদস্য নির্বাচিত হন। একই ভাবে জাতীয় রাজনীতি ও গণতান্ত্রিক প্রতিটি সংগ্রামে গুনুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এ বি এম মোশাররফ হোসেন। এর পর ২০০২ সালে কলাপাড়া বিএনপির সভাপতি যোগ দেন। ধাপে ধাপে দলে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। এর পর কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষন বিষয়ক সম্পাদক হিসেবেও সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি এস এস (অর্নাস) এম এস এস পাস করেন। মূল দক্ষতার মধ্যে রয়েছে রাজনৈতিক কৌশল প্রণয়ন, নীতি বিশ্লেষণ, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক যোগাযোগ দীর্ঘদিনের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও প্রতিষ্ঠানিক দক্ষতা।
নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী ছাত্র-গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম শীর্ষ নেতা। মেধাবী ও সাহসী নেতা হিসেবে রাজনীতিতে তার সুনাম রয়েছে। গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনে বরাবরই সক্রিয় এবিএম মোশাররফ হোসেন। উপজেলা বিএনপিতে যোগদানের পর থেকে তিনি এলাকায় বিএনপির রাজনীতিকে সুসংহত করতে চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। নিজের জনপ্রিয়তা অর্জনের পাশাপাশি বিএনপিকেও শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করিয়েছেন। দলীয় নেতাকর্মী ছাড়াও জনসাধারণের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন বিএনপির এই নেতা।
এবিএম মোশাররফ হোসেনও তাঁর ভাষণে এলাকাবাসীর আস্থা ও সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান এবং বলেন, “আমি দায়িত্ব নিয়ে মানুষের জীবনে বাস্তব পরিবর্তন আনতে কাজ করবো।
মন্তব্য করুন