
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের ধানের শীষ প্রার্থী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এবার নির্বাচনে জালিয়াতি বা কোনো ছলচাতুরীর সুযোগ নেই। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টায় আকচা ইউনিয়নের ফাঁড়াবাড়ি বাজারে নির্বাচনি সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, এবার দেশের সকল নাগরিক সুষ্ঠু ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে। আমরা এবার স্বাধীনভাবে এবং সুষ্ঠুভাবে ভোট দিতে পারব। তিনি আরও যোগ করেন, এবার কোনো জালিয়াতি, জবরদস্তি বা ছলচাতুরীর সম্ভাবনা নেই। কারণ বর্তমান সরকার নিরপেক্ষ এবং তারা চায় জনগণের ভোটের মাধ্যমে সরকার গঠিত হোক।
তিনি দেশের সেনাবাহিনী ও রাজনৈতিক দলগুলোকে উদাহরণ দেখিয়ে বলেন, সেনাবাহিনী নিরপেক্ষ নির্বাচন চায়, জনগণ চায় এবং আমরা রাজনৈতিক দলগুলোও চাই। ফলে এবারের ভোট সম্ভাবনাময় এবং সুন্দর হবে।
তিনি বলেন, আমরা তো সবাই চাই আমার ভোটটা আমি দেব, যাকে খুশি তাকে দেব। আমার মনটা যাকে চাইবে আমি তাকেই ভোট দেব। তাহলে এবারের ভোটের মধ্য দিয়ে আমার যদি একটা সুন্দর সরকার গঠন করতে পারি, যারা আমার দেশের স্বাধীনতাকে রক্ষা করবে, গণতন্ত্রকে রক্ষা করবে; এর পাশাপাশি আমার দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য তারা আয়-ইনকাম বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন পথ বের করবে এবং দেশে একটা সুশাসন ব্যবস্থা করবে।
মির্জা ফখরুল বলেন, এই নির্বাচন আমরা অনেক গুরুত্ব দিয়ে দেখছি, গুরুত্ব দিচ্ছি এ কারণে যে- ১৫ বছর পরে আমরা একটা ভালো নির্বাচন পাচ্ছি। এর আগে তিনটা নির্বাচন হয়েছে, কোনটাতে আমরা ভোট করি নাই, একটা ২০১৮ সালে ভোট করছিলাম ওটা আগের রাতে ভোট নিয়ে গেছে। এরপর আমরা যখন সবাই জেলে, তখন ২০২৪ এর নির্বাচন সেটাও হয় নাই। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে মধ্য দিয়ে পরিবর্তন হয়ে একটা নিরপেক্ষ সরকার এসেছে।
সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, এখানে বিভক্ত থাকলে চলবে না। আমরা হিন্দু-মুসলমান, বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সবাই এক হয়ে কাজ করব। তাহলে অবশ্যই আমরা উন্নয়নের কাজগুলো করতে পারব।
নিজ এলাকার জামায়াতের প্রার্থী দেলওয়ারের উদ্দেশ্যে মির্জা ফখরুল বলেন, আপনি না জেনে আমার সম্পর্কে কথা বলাটা ঠিক হবে না, আপনি একজন সম্মানীয় প্রার্থী, কথা সঠিক বলবেন তাহলে ভালো হবে। আর প্রতিপক্ষ প্রার্থীকে আক্রমণ করার সময় প্রতিপক্ষ প্রার্থীর মাত্রাটা-অবস্থানটা বুঝতে হবে, আর নিজের অবস্থানটা বুঝতে হবে।
মির্জা ফখরুল বলেন, এটা আমার শেষ নির্বাচন, এই নির্বাচনের পরে আমার আর বয়সও থাকবে না। তখন আমি কাজও ওই রকম করতে পারব না। আমি এসেছি প্রার্থী হয়ে আপনাদের কাছে ভোট চাই। আমাকে আপনারা সবাই মিলে ধানের শীষে ভোট দিয়ে কাজ করার সুযোগ দিবেন বলে আমি বিশ্বাস করি।
এসময় ঠাকুরগাঁও জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন বিএনপিসহ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও বক্তব্য দেন।
মন্তব্য করুন