
দীর্ঘ দুই দশক পর আজ বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বরিশাল সফরে আসছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। জাতীয় নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে দুপুর ১২টায় নগরের বেলস পার্ক ময়দানে আয়োজিত বিশাল জনসভায় ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে তার।
বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা জানিয়েছেন, তারেক রহমানের আগমনকে ঘিরে বরিশালজুড়ে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকেই বেলস পার্ক ময়দানে মঞ্চ নির্মাণসহ সার্বিক প্রস্তুতির কাজ চলতে দেখা যায়। নেতাকর্মীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে নগরের বিভিন্ন এলাকায় মাইকিংও করা হয়েছে।
দলীয় সূত্র জানায়, প্রায় ২০ বছর পর তারেক রহমানের এই সফর উপকূলীয় অঞ্চলের বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন রাজনৈতিক উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। সর্বশেষ ২০০৬ সালে বরিশাল সফর করেছিলেন তিনি। দীর্ঘ বিরতির পর এই আগমনকে স্থানীয় বিএনপির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন দলটির নেতারা।
বিএনপির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বরিশাল অঞ্চলে বিএনপির পক্ষে ব্যাপক গণজাগরণ তৈরি হয়েছে। বুধবারের জনসভা সেই গণজাগরণেরই বহিঃপ্রকাশ হবে। বেলস পার্ক ময়দান ছাড়িয়ে পুরো বরিশাল শহর জনসমুদ্রে পরিণত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি আরও জানান, বিভাগের ২১টি সংসদীয় আসনের বিএনপি প্রার্থীরা জনসভায় উপস্থিত থাকবেন।
দলীয় সূত্র মতে, জনসভায় বরিশাল অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নসংক্রান্ত একাধিক দাবি তারেক রহমানের কাছে তুলে ধরা হবে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—ভারী শিল্প ও ভোলার গ্যাস বরিশালে এনে সংযোগ, কৃষিভিত্তিক প্রক্রিয়াজাত শিল্প স্থাপন, পর্যটনশিল্পের আধুনিকায়ন, প্রযুক্তিকেন্দ্র স্থাপন করে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা, অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা, বহুজাতিক শিল্পকারখানা স্থাপনের মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার আধুনিকায়ন।
মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বেলস পার্ক এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, মঞ্চ নির্মাণের কাজ পুরোদমে চলছে। বিকেলের দিকে সমাবেশস্থলে পুলিশের উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে। মাঠের আশপাশের ভবনগুলোতে সাদাপোশাকের পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের তৎপরতাও লক্ষ্য করা গেছে।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানান, জনসভাকে কেন্দ্র করে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। একজন ভিআইপির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্কেলিটন ডিউটি, সিটিএসবি ও ডিবি টিম দায়িত্ব পালন করবে। পাশাপাশি মোবাইল টহল জোরদার করা হয়েছে। তার আগমন থেকে শুরু করে জনসভা শেষ হওয়া পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকবে বলে জানান তিনি।
মন্তব্য করুন