মঙ্গলবার
০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

পটুয়াখালী-৪ আসনে বিএনপি–ইসলামী আন্দোলনের মুখোমুখি লড়াই

এইচ এম হুমায়ুন কবির, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)
প্রকাশ : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৫:৩৪ পিএম
এবিএম মোশাররফ হোসেন, অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, জহির উদ্দিন আহমেদ ও রবিউল হাসান ¦ ছবি: এইচ এম হুমায়ুন কবির

দীর্ঘ ১৭ বছরের স্বৈরশাসনের অবসানের পর এবারের নির্বাচন নিয়ে উৎসাহ, প্রত্যাশা ও কৌতূহল। সব কিছুই যেন এক নতুন রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি করেছে। এক সময়ের আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ১১৪, পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী) সংসদীয় আসনে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনী চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ থাকায় ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলটির অংশগ্রহণ না থাকায় দীর্ঘদিনের পরিচিত ভোটের ধারায় বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে।

পটুয়াখালী-৪ সংসদীয় আসনে নির্বাচনী উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে। এলাকাজুড়ে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ। গণসংযোগ, মিছিল, সভা-সমাবেশে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা। বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠছে গ্রাম-গঞ্জ, হাটবাজার ও সড়কপথ। এবারের নির্বাচনকে ঘিরে সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও লক্ষ্য করা যাচ্ছে ব্যাপক আগ্রহ ও কৌতূহল।

পটুয়াখালীর ৪ এই গুরুত্বপূর্ণ আসনে এবার ৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধিতায় নেমেছেন। তবে ভোটের মূল লড়াই গড়ে উঠেছে দুই প্রার্থীর মধ্যেই। যেখানে ভোটের হিসাব-নিকাশ নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় রূপ নিয়েছে। বিএনপি নেতাকর্মীদের ধারণা, আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে তাদের নিজস্ব ভোট ব্যাংকের পাশাপাশি ভাসমান ভোটের বড় একটি অংশ বিএনপির দিকেই ঝুঁকেছে। সব মিলিয়ে বিএনপি-সামনে বড় চ্যালেঞ্জ ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান।

এখানে টিভি চ্যানেল টকশোতে প্রিয় নেতা বিএনপি’র নির্বাহী কমিটির প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মাঠে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে লড়বেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক মোস্তফিজুর রহমান (হাতপাখা)।

রাঙ্গাবালী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এবং একসময় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ডা. জহির উদ্দিন আহমেদ দেয়াল ঘড়ি। গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদ সদস্য মো. রবিউল হাসান (ট্রাক) নিয়ে প্রতিদ্ধন্ধিতায় থাকলেও তাদের নিয়ে ভোটারদের মধ্যে তেমন আলোচনা কিংবা সমালোচনা দেখা যাচ্ছে না। আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে এই আসনে মূল প্রতিদ্বন্ধি¦তা গড়ে উঠেছে বিএনপি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মধ্যে। কলাপাড়া ও চার দিকে সাগরকুল নদীবেষ্টিত রাঙ্গাবালী উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনটি বরিশাল বিভাগের মধ্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক অঞ্চল।

এখানে রয়েছে দেশের তৃতীয় বৃহত্তর সমুদ্র বন্দর পায়রা, তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, শের-ই-বাংলা নৌঘাঁটি, সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশন এবং আন্তর্জাতিক পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটা। ফলে এ আসনটি শুধু রাজনৈতিকভাবে নয়, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

স্থানীয় ভোটারদের ধারণা, এবার বিএনপি’র নির্বাহী কমিটির প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন রাজনীতি চমক দেখাবেন। আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে ত্যাগী ভূমিকা রাখা এবং পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির কারণে তরুণ। ওই নেতার নাম সবার মুখে মুখে। টিভি চ্যানেল থেকে শুরু করে চায়ের আড্ডা, ইউনিয়ন পরিষদের ময়দান পর্যন্ত আলোচনায়।

ফলে সব মিলিয়ে নির্বাচনটি হতে যাচ্ছে উত্তেজনাপূর্ণ ও বহুস্তরীয় প্রতিযোগিতামূলক এক লড়াই। এবিএম মোশাররফ হোসেন তার নির্বাচনী এলাকার মানুষের মধ্যে তিনি আস্থাও অর্জন করেছেন। নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী ছাত্র-গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম শীর্ষ নেতা।

মেধাবী ও সাহসী নেতা হিসেবে রাজনীতিতে তার সুনাম রয়েছে। গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনে বরাবরই সক্রিয় এবিএম মোশাররফ হোসেন। উপজেলা বিএনপিতে যোগদানের পর থেকে তিনি এলাকায় বিএনপির রাজনীতিকে সুসংহত করতে চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। নিজের জনপ্রিয়তা অর্জনের পাশাপাশি বিএনপিকেও শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করিয়েছেন। দলীয় নেতাকর্মী ছাড়াও জনসাধারণের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন বিএনপির এই নেতা।

পটুয়াখালী-৪ আসনটি ঐতিহাসিকভাবে ১৯৮৬ সালের ৭ মে তৃতীয় এবং ১৯৮৮ সালের ৩ মে চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির মরহুম আবদুর রাজ্জাক খান এমপি হন। ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি পঞ্চম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের আনোয়ার-উল-ইসলাম নির্বাচিত হন। তখন থেকেই জাতীয় পার্টির কাছ থেকে আসনটি হাত ছাড়া হয়ে যায়।

শুধু ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বিরোধী দলবিহীন বিতর্কিত ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচনে খালি মাঠে গোল দেওয়ার মতো বিএনপির মোস্তফিজুর এই রহমান নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালের ১২ জুন সপ্তম সংসদ নির্বাচনে দ্বিতীয় বারের মতো আওয়ামী লীগের আনোয়ার-উল-ইসলাম নির্বাচিত হয়ে আসনটি পুনরুদ্ধার করেন। এরপর ২০০১ সালের ১ অক্টোবর অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মাহবুবুর রহমান জয়লাভ করেন। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নবম সংসদ নির্বাচনে দ্বিতীয়বারের মতো মাহবুবুর রহমান এমপি নির্বাচিত হলে তাকে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছিল। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম সংসদ নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্ধন্ধিতায় মাহবুবুর রহমান তৃতীয়বার এমপি হন।

নির্বাচন অফিস সূত্রে জনা যায়, কলাপাড়া উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও ২’টি পৌর সভায় ভোটার দুই লক্ষ চৌদ্দ হাজার ৪৮১ জন। পুরুষ ভোটার-১০৮৮৩৬, মহিলা ভোটার-১০৫৬৪৫ জন এবং রাঙ্গাবালী উপজেলা ৫টি ইউনিয়নে ৯৪ হাজার ৮৬৪ জন ভোটার রয়েছেন এর মধ্যে পুরুষ ভোটার-৪৭৬৬১, মহিলা ভোটার-৪৭২০৩ জন।

ধানের শীষ প্রতীকের মনোনীত প্রার্থী এবিএম মোশাররফ হোসেন বলেন, ঈদের উপহারের মতোই একটি বোনাস ঘোষণা করেছেন আমাদের নেতা তারেক রহমান। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে প্রত্যেক পরিবারকে একটি করে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। পরিবারের প্রধান নারী সদস্যকে এই কার্ডটি দেওয়া হবে। বিএনপির কৃষি খাতভিত্তিক পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি আরো বলেন, জমি চাষ করতে হলে সার, বীজ ও কীটনাশক লাগে। কিন্তু অনেক কৃষকের এসব কেনার সক্ষমতা নেই। কৃষকরা যেন ন্যায্য মূল্যে সার, বীজ ও কীটনাশক পায় এবং কৃষি উৎপাদনে সব ধরনের সহযোগিতা পায়-সে লক্ষ্যেই কৃষক কার্ড চালুর ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি।

বাংলাদেশের যত অর্জন ও অবদান রয়েছে, তার মূল ভূমিকা বিএনপির কুয়াকাটা, পায়রা বন্দরের আগামি দিনের উন্নয়নে বিএনপির কোন বিকল্প নাই উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, ‘ একটা দল ইসলাম ও বেহেশতের কথা বলে সহজ সরল ধর্মভীরু ভোটারদের দ্বারে গিয়ে নানা কৌশলে ভোট চাচ্ছেন- এদের ব্যাপারে সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘ কে কোন দল করেন এটি বিষয় নয়, অন্তত উন্নয়নের স্বার্থে এবারে ধানের শীষে ভোট দিন।’

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক মোস্তফিজুর রহমান (হাতপাখা) বলেন, সুষ্ট ও নিরপেক্ষ ভোট হলে আমার বিজয় কেউ ফিরিয়ে রাখতে পারবেনা। সব জায়গা পাখা ভোট আছে। ভোটারা শুধু ১২ তারিখের অপেক্ষায় আছে। তিনি আরো বলেন, ‘আমি ব্যক্তি বা দলীয় স্বার্থে নয়, ইসলামী আদর্শ, সুশাসন ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য নির্বাচন করছি। মানুষ পরিবর্তন চায়, আমি সেই পরিবর্তনের প্রতিনিধি হতে চাই।

জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১০-দলীয় ‘ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ’ জোটের মনোনীত প্রার্থী ডা. জহির উদ্দিন আহমেদ (দেয়াল ঘড়ি) বলেন, আমার অবস্থা খুবই ভাল আছে। আপনাদের দোয়া আমি বিজয়ের আশাবাদি। ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘ রাজনৈতিক সহিংসতা, মামলা-হামলা ও অস্থিরতায় তারা ক্লান্ত। এখন তারা উন্নয়ন, শান্তি ও কর্মসংস্থান চায়। একজন ভোটার বলেন, আমরা এমন নেতা চাই, যিনি দলবাজি বা চাঁদাবাজি নয়, বরং মানুষের অধিকার নিয়ে কথা বলবেন।

কৃষক মহিউদ্দিন খা বলেন, টিভি চ্যানেল টকশোতে প্রিয় নেতা বিএনপি’র নির্বাহী কমিটির প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন বিজয় হলে মোগো দক্ষিনাঞ্চলে উনয়ন হবে। সাগরপারের মানুষ মোরা ব্যাপক উনয়নের দরকার। মোশাররফ হলে সিডর-আইলা বেরিবাধ ভাঙ্গা রাস্তাঘাটগুলো সরকার থেকে কাজ আইন্ন্যা মেরামত করবে।

জেলে কামরুল ভাষ্য মতে, পটুয়াখালী ৪ আসনে উন্নয়নের জন্য মোশাররফ কাজ করমো আনতে পারবে ওরে এইয়ানে এমপি বানানো দরকার। আমি জালইয়্যা মানুুষ টিভি চ্যানেলে ওর কথা হুনি।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

যশোরসহ ২০ অঞ্চলে ঝড়ের সম্ভাবনা

উত্তাল বঙ্গোপসাগর, চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত

ঘুসের টাকা গুনে নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল, বাগমারা থানার পুলিশ পরিদর্শক প্রত্যাহার

মহম্মদপুরে মেয়াদোত্তীর্ণ কীটনাশকে নতুন সিল

রামিসা হত্যা: সোহেল ও স্বপ্না ‘কনডেম সেলে’

কেশবপুরে শরীকানা পুকুরের মাছ লুটের অভিযোগ

রাজশাহীতে বিভাগীয় পর্যায়ে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন

পাবনায় হত্যা মামলার আসামিদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, নিহত ৩

রাজশাহীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ মিছিল

বিশ্ববাজারে আবারও বাড়লো স্বর্ণের দাম

ফের বাড়ল তেলের দাম

বিশ্বকাপ ইতিহাসে পেনাল্টি গোলের রেকর্ডে লিওনেল মেসি

দেশে ফিরলেন ৪৫১৫৮ হাজি, মৃত্যু ৪৯

নওগাঁয় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশ সুপারের সচেতনতামূলক মতবিনিময় সভা

যশোরে স্ত্রী হত্যায় স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা, চাকু উদ্ধার

কালীগঞ্জে সর্বত্র মাদকের রমরমা ব্যবসা / হুমকির মুখে যুবসমাজ, আতঙ্কে অভিভাবকরা

২০২৬-২৭ বাজেট: যেসব পণ্যের দাম কমতে পারে

দেশের ১৪ জেলায় ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস

নড়াইলে ইয়াবাসহ যুবক গ্রেফতার, ২ মাসের কারাদণ্ড

স্ত্রীকে তালাক দিয়ে শাশুড়িকে বিয়ে!

X