
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান যশোরে আসছেন আজ। প্রথমবারের মতো সাংগঠনিক জনসভায় অংশ নিতে দুপুর দেড়টার দিকে হেলিকপ্টারে তিনি যশোরে পৌঁছাবেন। ইতিমধ্যে তার আগমন উপলক্ষে পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দিতে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। মোতায়েন করা হয়েছে ৫ শতাধিক পুলিশ সদস্য। শতাধিক পুলিশের বডিতে রয়েছে লাইভ ক্যামেরা বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম। মাঠে থাকছেন র্যাবের স্পেশাল ছয়টি টিমসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটের।
- মোতায়েন থাকবে ৫শ’ পুলিশ ও র্যাবের ৬টি টিম
- তিন স্তরের কঠোর নিরাপত্তা, থাকছে বডি ক্যামেরাও
এদিকে, তার আগমনকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। রোববার দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে জেলা বিএনপির আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক ও যশোর-৩ আসনের প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, মাত্র দুইদিনের প্রস্তুতিতেই তারেক রহমানের এই সমাবেশ যশোরের স্মরণকালের বৃহত্তম জনসমাবেশে পরিণত হবে। ভবদহ সমস্যাসহ নানা সমস্যার কথা তুলে ধরা হবে। এছাড়া তারেক রহমানের আগমনকে ঘিরে জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঠে উৎসবের আমেজ বইছে। রোববার দিনব্যাপী শহরজুড়ে ছিলো নেতাকর্মীদের স্বাগত ও আনন্দ মিছিল। এক কথায় তারেক রহমানের আগমন ঘিরে উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছে যশোর শহর।
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে প্রেসক্লাব যশোরে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। তারেক রহমানের এই নির্বাচনী সমাবেশ যশোরের স্মরণকালের বৃহত্তম জনসমাবেশে পরিণত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন বিএনপির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক ও যশোর-৩ আসনের প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, তারেক রহমান সোমবার দুপুর দেড়টার দিকে হেলিকপ্টারে যশোরে পৌঁছাবেন। জনসভায় তিনি যশোরসহ আশপাশের সাতটি জেলার ধানের শীষের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেবেন এবং দেশ গঠনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরবেন।
তিনি আরও বলেন, এবারই প্রথম কোনো রাজনৈতিক দল শহরের ভেতরে নয়, শহরের বাইরে গিয়ে জনসভা আয়োজন করছে। আমরা জনগণের জন্য রাজনীতি করি। তাই শহরের মানুষ যেন ভোগান্তিতে না পড়েন-সেই চিন্তা থেকেই শহরের বাইরে সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। এরপরও যদি সাধারণ মানুষের সামান্য কষ্ট হয়, সেজন্য আমরা আগেই ক্ষমা প্রার্থনা করছি।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে অমিত বলেন, মানুষের উপস্থিতি বাড়ানোর জন্য আমাদের কোনো নির্দিষ্ট টার্গেট নেই। যারা সমাবেশে আসবেন, তারা ভালোবাসা ও আবেগ থেকেই আসবেন। যশোরবাসীর জন্য আমাদের অনেক দাবি রয়েছে, যা লিখিত আকারে তারেক রহমানের কাছে তুলে ধরা হবে। বিশেষ করে ভবদহ সমস্যার সমাধানকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম। সভাপতিত্ব করেন যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু। উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার রবিউল ইসলাম, মুনির আহম্মেদ সিদ্দিকী বাচ্চু, বিএনপি নেতা হাজী আনিছুর রহমান মুকুলসহ দলীয় নেতৃবৃন্দ।
এদিকে, সমাবেশকে ঘিরে রোববার বিকেলে যশোর উপশহর কলেজমাঠে আয়োজিত এক প্রেসব্রিফিংয়ে যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম জানান, তারেক রহমানের জনসভাকে কেন্দ্র করে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, সমাবেশস্থলে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে এবং পাঁচ শতাধিক পুলিশ সদস্য সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে শতাধিক পুলিশ সদস্যের শরীরে স্থাপন করা হবে বডি ক্যামেরা। পুলিশ সুপার আরও জানান, তারেক রহমান হেলিকপ্টারে যেখানে অবতরণ করবেন, সেই হেলিপ্যাড এলাকা থেকে শুরু করে সমাবেশস্থল পর্যন্ত পুলিশের পক্ষ থেকে দুই স্তরের বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মঞ্চের চারপাশেও দুই স্তরের নিরাপত্তা বলয় থাকবে। পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি ডিবি ও ডিএসবি সদস্যরাও সার্বক্ষণিক নজরদারিতে থাকবেন।
সমাবেশস্থলের আশপাশে বড় বড় গাছ থাকায় সেখানে কেউ যাতে অবস্থান নিতে না পারেন-সে বিষয়েও বিশেষ নজরদারি রাখা হবে বলে জানান তিনি। এছাড়া ড্রোন উড়ানোর ক্ষেত্রে পূর্ব থেকে অনুমতি নেয়ার আহবান জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা পুলিশের কাজে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন বলেও আশ্বাস দিয়েছেন। যানবাহন ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শহরের পাঁচটি স্থানে যানবাহন রাখার জন্য নির্দিষ্ট করা হয়েছে। ভিআইপি গাড়ি ছাড়া অন্য কোনো যানবাহন সমাবেশস্থলে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। এজন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন থাকবে।
পুলিশ সুপার বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এই প্রথমবারের মতো পুলিশের শরীরে বডি ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে। যাতে সব ধরণের কর্মকাণ্ড ক্যামেরায় ধারণ করা সম্ভব হয়। প্রেসব্রিফিং শেষে পুলিশ সুপার সমাবেশস্থল পরিদর্শন করেন এবং সেখানে দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্য ও বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আবুল বাশার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ‘ক’ সার্কেল আহসান হাবীব, কোতোয়ালি থানার ওসি ফারুক আহমেদ, ডিবি পুলিশের কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ আলীসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।
এছাড়া বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের যশোর আগমন উপলক্ষে রোববার উৎসবমুখর হয়ে উঠে পুরো শহর। বেলা সাড়ে ১১টায় টাউন হল মাঠ থেকে স্বাগত মিছিল বের করে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল। মিছিল চলাকালে নেতাকর্মীদের কণ্ঠে ধ্বনিত হয়, ‘যশোরবাসী ডাকছে, তারেক রহমান আসছে, অমিত ভাই ডাকছে, তারেক রহমান আসছে, তারেক রহমানের আগমন শুভ হোক-স্বাগতম, যশোরবাসীর পক্ষ থেকে লাল গোলাপ শুভেচ্ছা।’ এসব স্লোগান মুখর হয়ে ওঠে যশোরের রাজপথ। মিছিলটি টাউন হল মাঠ থেকে শুরু হয়ে চিত্রামোড়, চৌরাস্তা ঘুরে আদ-দ্বীন হাসপাতালের সামনে দিয়ে লালদীঘির পাড়ে দলীয় কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলে নেতৃত্ব দেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক মোস্তফা আমির ফয়সাল ও সদস্য সচিব রাজিদুর রহমান সাগর।
বিকেলে জেলা ছাত্রদলের পক্ষথেকেও স্বাগত মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। একই শ্লোগানে কম্পিত হয় পুরো শহর। নেতৃত্বদেন জেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ওমর ফারুক তারেক, সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান বাপ্পি ও সাংগঠনিক সম্পাদক শাহনেওয়াজ ইমরান। এছাড়া এমএম কলেজ ছাত্রদলের উদ্যোগে স্বাগত মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। বিকেলে সভাস্থল পরিদর্শন করেন বিএনপির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিতসহ নেতৃবৃন্দ।
মন্তব্য করুন