
ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলায় নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর এক কর্মীকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে বিএনপির সহযোগী সংগঠন যুবদলের এক নেতার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ব্যক্তি হলেন রাজাপুর উপজেলার একটি ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি আমির হোসেন বাচ্চু হাওলাদার।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাতে রাজাপুর উপজেলার পশ্চিম রাজাপুর এলাকার ‘সারে চার আনি’ ইসলামিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। আহত ব্যক্তি হলেন জামায়াতে ইসলামীর কর্মী আব্দুল করিম সিকদার। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালে আহত কর্মীকে দেখতে যান ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঁঠালিয়া) আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ড. ফয়জুল হক। এ সময় তিনি অভিযোগ করে বলেন, জামায়াতে ইসলামীর শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী কার্যক্রমে বাধা দিতে পরিকল্পিতভাবে তাদের কর্মীদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে। পরাজয়ের আশঙ্কা থেকেই এই সহিংসতা ঘটানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
ড. ফয়জুল হক আরও বলেন, হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার না করা হলে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ঝালকাঠি-১ আসন দীর্ঘদিন ধরেই আলোচিত ও সংবেদনশীল এলাকা। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে এই নির্বাচনকে ষড়যন্ত্রমূলক ও পাতানো নির্বাচন হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
তিনি তার বক্তব্যে আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামীর কর্মীরা রক্ত দিয়ে সংগঠন গড়ে তুলেছে। একজন কর্মীর রক্ত ঝরলে তার রাজনৈতিক জবাব দেওয়া হবে গণতান্ত্রিক উপায়ে—ভোটের মাধ্যমে। তিনি প্রশাসনকে দ্রুত অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানান এবং অন্যথায় পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দেন।
অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করে আমির হোসেন বাচ্চু হাওলাদার দাবি করেন, আহত আব্দুল করিম সিকদার তার দূরসম্পর্কের আত্মীয়। প্রায় তিন থেকে চার বছর আগে দেওয়া ১ হাজার ৮০০ টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। তবে পরিকল্পিত হামলা বা গুরুতর মারধরের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে ড. ফয়জুল হকের বক্তব্যকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মিথ্যা বলে আখ্যা দেন।
এ বিষয়ে রাজাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম জানান, এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।
মন্তব্য করুন